মাথাভাঙার পর এবার দুর্গাপুর! বিএলও-র অপেক্ষায় থাকা বিজেপি বিএলএ-কে মারধরের অভিযোগ, ভর্তি হাসপাতালে

কোচবিহারের মাথাভাঙার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে আক্রান্ত হলেন বিজেপির বিএলএ-২ (বুথ লেভেল এজেন্ট)। মঙ্গলবার দুর্গাপুর বিধানসভার ৪০ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে মারধর করেছে। যদিও শাসকদল এই অভিযোগকে ‘পুরোপুরি নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মী সুকুমার সিংহের অভিযোগ, তিনি ৪০ নম্বর বুথে বিএলও-র (বুথ লেভেল অফিসার) জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় তিনজন তৃণমূল কর্মী এসে তাঁকে গালিগালাজ করে এবং প্রতিবাদ করলে মারধর শুরু করে। তাঁর মাথায়, মুখে ও পাঁজরে আঘাত লেগেছে বলে বিজেপি জানিয়েছে।
আক্রান্ত সুকুমার সিংহ বলেন, “আমি ৪০ নম্বর বুথে বিজেপির বিএলএ-২। সকালে বিএলও-কে ফোন করি এন্যুমারেশন ফর্ম বিলি করতে বেরনোর জন্য। আমি অপেক্ষা করছিলাম। তখনই তিনজন আসে, আর আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। আমি নিষেধ করি। তখন আমাকে মারতে শুরু করে। ওঁরা তৃণমূলেরই লোক। আমি বিজেপির বিএলএ বলেই হামলা করেছে।”
বিজেপি’র কড়া হুঁশিয়ারি: আহত অবস্থায় সুকুমার সিংহকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে আসেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে বলেন, “এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। আমাদের কর্মীদের মারছে, আমাদের বুথ লেভেল এজেন্টদের মারছে। আমাদের কর্মীরা সাধারণ মানুষকে এসআইআর-এর ফর্ম ফিলাপ করতে সাহায্য করছেন। সেই শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়াকে ঘেঁটে দিতে চাইছে তৃণমূল। এরকমটা হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করাতে হবে।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: তবে বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি রাজীব ঘোষ। তাঁর পাল্টা দাবি, “আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। কেউ কাউকে মারধর করেনি। এটা বিজেপির নাটক। বাজার গরম করার চেষ্টা হচ্ছে। দুর্গাপুরে অযথা বিতর্ক তৈরি করতে বিজেপির নতুন কৌশল এটা।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপির এক বিএলএ-২-কে বিএলও-র সঙ্গে ফর্ম বিলি করার সময় হেনস্তা ও গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে।