লালকেল্লার বিস্ফোরণকাণ্ড, লখনউ থেকে মহিলা চিকিৎসক শাহীন সিদ্দীকী গ্রেফতার, জইশ-ই-মহম্মদের যোগ থাকার সন্দেহ

দিল্লীর লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের ঠিক আগে লখনউ থেকে শাহীন সিদ্দীকী নামে এক মহিলা চিকিৎসককে (Doctor) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর গাড়ি থেকে একটি একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল-সহ প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শাহীন এবং তাঁর সঙ্গী চিকিৎসক মুজ়াম্মিল শাকিলের সঙ্গে দিল্লী বিস্ফোরণকাণ্ডের সরাসরি যোগ থাকতে পারে।

বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার:

  • গত সোমবার, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এটিএস (ATS) যৌথ অভিযান চালিয়ে শাহীনকে গ্রেফতার করে।
  • এর আগে ফরিদাবাদের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে।
  • বিস্ফোরকের সঙ্গে ২০টি বোমার টাইমার, রিমোট এবং ওয়াকিটকিও পাওয়া যায়। এখান থেকেই মহিলা চিকিৎসকের নাম উঠে আসে।
  • শাহীনের গাড়ি তল্লাশি করে তদন্তকারীরা একটি একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার করে।

বিস্ময়কর অতীত ও সন্ত্রাসবাদী যোগ:

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর মেয়ে শাহীন পেশায় একজন চিকিৎসক হয়েও কীভাবে জইশ-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর মহিলা বিভাগের অন্যতম প্রধান হয়ে গেলেন, তা নিয়ে সন্দিহান তদন্তকারীরা।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবন: শাহীন এলাহাবাদ থেকে ডাক্তারি পড়েন। ২৫ বছর আগে পড়া শেষ করে কানপুরের জেএসভিএম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ২০০৯-’১০ সালে তিনি কনৌজের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বদলি হয়েছিলেন।
  • উধাও হয়ে যাওয়া: ২০১৩ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে ছুটিতে চলে যান শাহীন। এরপর আর তাঁকে দেখা যায়নি। ২০২১ সালে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।
  • বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্দেহ: মহারাষ্ট্রে জাফর হায়াত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু ২০১৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি কানপুরের চাকরি ছেড়ে ফরিদাবাদ চলে যান এবং হঠাৎ উধাও হয়ে যান। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওই সময়েই সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়।

জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান:

তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চিকিৎসককে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনীনের ভারত শাখার প্রধান করা হয়েছিল। তিনি মাসুদ আজ়হারের বোন সাদিয়া আজ়হারের সঙ্গে পরিকল্পনা করে কাজ করতেন।