লানি সংকটের নেপথ্যে কি কালোবাজারি? পাম্পে পাম্পে হাহাকার, দায় ঝেড়ে ফেলছে সবাই

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলে সামান্য টান পড়লেই তার আঁচ এসে লাগে সাধারণ মানুষের পকেটে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেলের যে আকাল দেখা দিয়েছে, তার নেপথ্যে কি শুধুই সরবরাহের ঘাটতি, নাকি এর পিছনে কাজ করছে বড় কোনো মজুতদারি চক্র? সাধারণ মানুষের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। পাম্পে পাম্পে ‘নো স্টক’ বোর্ড ঝুলছে, অথচ অভিযোগ উঠছে যে তেলের আকাল কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে।

শহরের একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও শেষমেশ খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বাইক আরোহী থেকে শুরু করে পণ্যবাহী লরি চালকদের। ডিলারদের দাবি, তেল সংস্থাগুলি থেকে পর্যাপ্ত জোগান আসছে না। অন্যদিকে, তেল সংস্থাগুলির পাল্টা দাবি— জোগান স্বাভাবিক রয়েছে, কিছু অসাধু ডিলার বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করে রাখছেন। এই দড়ি টানাটানিতে বলি হচ্ছেন সাধারণ উপভোক্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখনই তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই একদল মজুতদার সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা কম দামে কেনা তেল মজুত করে রাখে এবং দাম বাড়লে তা চড়া দরে বাজারে ছাড়ে। এই কৃত্রিম সংকটের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। সবজির দাম থেকে শুরু করে মাছ-মাংস— সবকিছুরই আকাশছোঁয়া দামের মূলে রয়েছে এই জ্বালানি সংকট।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে না? কেন মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দায় এড়ানোর খেলায় ব্যস্ত সরকার ও তেল সংস্থাগুলো। এই অচলাবস্থা না কাটলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এখন দেখার, প্রশাসন এই অসাধু চক্র ভাঙতে কতটা তৎপর হয়, নাকি সাধারণ মানুষকে এভাবেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের জন্য হাহাকার করতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy