বাংলার মা-বোনেদের জন্য এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় খবর। নির্বাচনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে বড়সড় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নতুন রাজ্য সরকার। এবার থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আর রোদে-জলে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দেওয়ার কোনো ঝক্কি পোয়াতে হবে না। ঘরে বসেই সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে করা যাবে আবেদন। নবনিযুক্ত পুর এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই নিয়মের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে প্রতি মাসের ৩,০০০ টাকা। এর পাশাপাশি ওই দিন থেকেই সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে এই টাকা পাওয়ার জন্য ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া সমস্ত ধোঁয়াশা এবার দূর করল সরকার।
আর লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ, আবেদন হবে অনলাইনে
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগে এই ধরণের সামাজিক প্রকল্পের জন্য সাধারণ মানুষকে ‘দুয়ারে সরকার’-এর লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কিন্তু নতুন সরকার এই ডিজিটাল যুগে সেই ভোগান্তি পুরোপুরি বন্ধ করতে চলেছে। তিনি ইতিমধ্যে তাঁর দফতরকে একটি অত্যন্ত সহজ এবং সরল অনলাইন পোর্টাল তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পোর্টালটি এতটাই সহজ হবে যে, অল্প শিক্ষিত বা সাধারণ গ্রামীণ মহিলারাও কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই নিজেদের মোবাইল থেকে অনায়েসে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।
আবেদন করার সহজ ধাপগুলো কী কী?
সরকার সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (wb.gov.in) অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পোর্টাল চালু হতে চলেছে। আবেদনের সম্ভাব্য প্রক্রিয়াটি হবে এই রকম:
প্রথমে পোর্টালে গিয়ে নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে লগইন করতে হবে।
এরপর রেশন কার্ডের নম্বর দিলে পরিবারের সমস্ত নথি নিজে থেকেই স্ক্রিনে চলে আসবে।
এরপর আবেদনকারী মহিলার নাম, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড ও ব্যাঙ্কের বিস্তারিত তথ্য (অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড) নিখুঁতভাবে বসাতে হবে।
সবশেষে একটি সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে ফর্মটি সাবমিট করতে হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
নবান্ন ও প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাঁরা ইতিপূর্বে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁরা সকলেই সরাসরি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় চলে আসবেন। তবে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর আগে সরকারের তরফ থেকে একটি স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া বা ‘অ্যানালিসিস’ চালানো হবে। এই যাচাইয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো ভুয়ো আবেদনকারী বা মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, যাতে রাজ্যের প্রকৃত যোগ্য ও স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারা কোনো বৈষম্য ছাড়াই এই ৩,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন।





