ভোটার স্লিপ বিতর্কে সরকারি হ্যান্ডেল থেকে বিতর্কিত পোস্ট! বিতর্কের মুখে ক্ষমা চাইলেন উত্তরপ্রদেশের সিইও?

উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে করা একটি কটু ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চরম সমালোচনা। ভোটার স্লিপে ভুল তথ্য এবং জাতিগত পক্ষপাতিত্বের মারাত্মক অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) নবদীপ রিণওয়ার ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও অনানুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়। সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে মঙ্গলবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রকাশ্যে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে নির্বাচন কমিশন।

কী নিয়ে সূত্রপাত এই বিতর্কের?
সাম্প্রতিক বিধান পরিষদ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় “রাম নে শর্মাকে মারা” (রাম শর্মাকে মেরেছে)-র মতো অত্যন্ত অদ্ভুত ও অমূলক প্রবিষ্টি নজরে আসে। আম আদমি পার্টি (AAP)-র রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং এই বিষয়ে সোচ্চার হন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও জাতিগত পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এর জবাবে সোমবার সিইও-র অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পাল্টা পোস্ট করা হয়। পোস্টে বলা হয়, কম্পিউটার বা সফটওয়্যার কখনও জাতিবাদী হতে পারে না। সেখানে আরও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে লেখা হয় যে, ভাগ্যিস রাম কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে মারেনি, তা না হলে জাতিবাদের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতার দাগও কমিশনের গায়ে লাগানো হতো।

ব্যাপক সমালোচনা ও কমিশনের ক্ষমা প্রার্থনা:
একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্বশীল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে এমন আক্রমণাত্মক ও অপ্রাসঙ্গিক পোস্ট দেখে নেটিজেনদের পাশাপাশি বিশিষ্ট রাজনৈতিক মহলও সোচ্চার হয়। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মঙ্গলবার নির্বাচনী আধিকারিক নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন। এক্স-এ দেওয়া নতুন পোস্টে সিইও জানান, পূর্ববর্তী পোস্টে ব্যবহৃত ভাষার মান এবং সুর অফিশিয়াল যোগাযোগের পরিপন্থী ছিল। মানুষের অসন্তোষ ও ক্ষোভকে সম্মান জানিয়ে তাঁরা মন থেকে ক্ষমা চাইছেন এবং ভবিষ্যতে কেবল শালীন ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাষাই ব্যবহার করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন।