রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী গীতা দাস। সরাসরি উপভোক্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানালেন, সরকারের সুবিধা নিয়ে যদি দলের পাশে না থাকা হয়, তবে সেই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে। নেত্রীর এই মন্তব্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল।
ঠিক কী বলেছেন গীতা দাস? মেমারির ওই দলীয় সভা থেকে গীতা দাসকে বলতে শোনা যায়, “সরকার আপনাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছে, বার্ধক্য ভাতা দিচ্ছে। কিন্তু ভোটের সময় যদি আপনারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেন, তবে সেই সব সুবিধা কেড়ে নেওয়া হবে। যাদের বাড়ির লোকেরা অন্য দলকে সমর্থন করছেন, তাদের তালিকা তৈরি হবে এবং প্রকল্পের টাকা ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক মহলে ঝোড়ো হাওয়া: তৃণমূল নেত্রীর এই ‘হুঁশিয়ারি’ সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
বিজেপির কটাক্ষ: বিজেপির দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পকেট থেকে দেন না, এটা সাধারণ মানুষের করের টাকা। সরকারি প্রকল্পকে রাজনীতির অস্ত্র বানানো অসাংবিধানিক।
বাম-কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: বাম নেতৃত্বের মতে, পরাজয়ের ভয়েই এখন গরিব মানুষের ভাতার ওপর কোপ মারার ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল।
তৃণমূলের সাফাই: বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই মেমারি ১ নম্বর ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। তাদের দাবি, আবেগের বশে বা সাধারণ মানুষকে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা বোঝাতে গিয়ে হয়তো শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এই ধরণের মন্তব্যকে সমর্থন করা হয় না।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: ভোটের আগে প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে গিয়ে নেত্রীর এই ‘দাদাগিরি’ মেমারির সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। উপভোক্তাদের অনেকেরই প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া কি তবে গণতান্ত্রিক অধিকার নয়?
২০২৬-এর ভোটের লড়াইয়ে যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলের অন্যতম তুরুপের তাস, তখন গীতা দাসের এই মন্তব্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য রাজনীতিতে এখন ‘ভাতা বন্ধের হুমকি’ ঘিরে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।





