লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কোনো ‘ভাতা’ নয়! মাধ্যমিক পাসের পর স্কলারশিপ নিয়ে নতুন গাইডলাইন দিলেন তৃণমূল নেত্রী

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে আরও একবার নিজের তুরুপের তাস ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কেই হাতিয়ার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পূর্বস্থলীর সমুদ্রগড় হাইস্কুল মাঠের জনসভা থেকে তিনি রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য এক বড় ঘোষণা করেছেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন তিনি আছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কখনও বন্ধ হবে না।

নতুন নাম লেখানোদের জন্য সুখবর: অনেকেই সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা নতুন শুরু হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে নাম লিখিয়েছেন, কিন্তু এখনও টাকা পাননি। তাঁদের উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:

“লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবসাথীতে যারা নতুন নাম লিখিয়েছেন, কেউ যদি এখনও টাকা না পেয়ে থাকেন—চিন্তা করবেন না। সবার নাম প্রসেসিংয়ে আছে, খুব দ্রুতই আপনারা টাকা পেয়ে যাবেন।”

যুবসাথী ও পকেট খরচার তত্ত্ব: এদিন যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, মাধ্যমিক পাসের পর পড়ুয়ারা যখন কলেজে যায়, তখন হাতখরচের জন্য যাতে কারও মুখাপেক্ষী হতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন:

  • এটি কোনও ‘ভিক্ষা’ বা ‘ভাতা’ নয়

  • স্কলারশিপের সঙ্গে এই প্রকল্পের কোনও সম্পর্ক নেই; ছাত্রছাত্রীরা স্কলারশিপ যেমন পাচ্ছিলেন, তেমনই পাবেন।

  • এছাড়া এই যুবকদের জন্য ভবিষ্যতে জীবিকার সন্ধানও করে দেবে রাজ্য সরকার।

ভোটের ময়দানে মাস্টারস্ট্রোক? রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার গত নির্বাচনেও তৃণমূলের জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। ২০২৬-এও সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভোটব্যাঙ্ক সুনিশ্চিত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বস্থলীর সভা থেকে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সামাজিক সুরক্ষার এই চাকা আজীবন সচল থাকবে।

একদিকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ এবং অন্যদিকে জনমুখী প্রকল্পের এই ‘গ্যারান্টি’— দুইয়ের মিশেলে তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।