লক্ষ্মীপুজোতেই দীপাবলি, জঙ্গলমহলের হাড়দা গ্রামে ₹১৮ লক্ষের বাজেট, আতশবাজির প্রদর্শনীতে উপচে পড়া ভিড়

জঙ্গলমহলের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম, যেখানে আলোর উৎসব দীপাবলিতে নয়, বরং লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে হয়। ঝাড়গ্রামের বিনপুরের কাছে অবস্থিত হাড়দা গ্রামের এই লক্ষ্মীপুজোর বাজেট শুনলে চোখ কপালে উঠতে পারে—তা প্রায় আঠেরো লক্ষ টাকার কাছাকাছি! এখানকার লক্ষ্মীপুজো এক দিনের নয়, টানা পাঁচ দিন ধরে চলে এবং সাত দিন ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ঘট উত্তোলন ঘিরে বিশাল সমারোহ
এই বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন মূলত শুরু হয় ঘট উত্তোলনকে কেন্দ্র করে। হাড়দার লক্ষীপুজো কমিটি প্রতি বছর পুজোর ঘট উত্তোলনের সময়ে এক বিশেষ আতশবাজি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে।

সোমবার রাতে এই আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। বিনপুর বাজার থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে হাড়দার ইকো ট্যুরিজম পার্কের সন্নিকট রাস্তার দুই পাশে সুষ্ঠুভাবেই এই প্রদর্শনী সমাপ্ত হয়।

আলোর আকর্ষণ: কয়েক লক্ষ টাকা বাজেটের এই আতশবাজি প্রদর্শনীর মধ্যে বিশেষভাবে চোখ টেনেছে বিশাল উচ্চতার কদম গাছের বাজি ও চড়কি আতশবাজি। এছাড়াও বিভিন্ন রংবেরঙের তুবড়ি বাজির প্রদর্শন হয়।

পরিবেশবান্ধব পরিবর্তন: গত কয়েক বছর ধরে এই প্রথায় সামান্য পরিবর্তন এনে পরিবেশবান্ধব আতশবাজির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই বিশাল আয়োজন ঘিরে দু’দিন আগে পর্যন্ত ধোঁয়াশা থাকলেও, বৃষ্টি-দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পর উৎসবের রঙে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম।

পারিবারিক পুজো থেকে সর্বজনীন উৎসব
এই লক্ষ্মীপুজো এখন শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি হাড়দা গ্রামের মানুষের মিলন ক্ষেত্র। একসময় সাহা, মণ্ডলদের পারিবারিক পুজো হলেও, এখন তা সর্বজনীন পুজোর আকার নিয়েছে এবং গ্রামে স্থায়ী লক্ষ্মী মন্দিরও তৈরি হয়েছে।

এখানে লক্ষ্মীর সঙ্গে সরস্বতীও পুজিত হন। এই পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত পরিবারের সদস্যরা একজোট হন।

অভূতপূর্ব উৎসাহ: দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে ভিড় জমান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিনপুর থানার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। বেলপাহাড়ির এসডিপিও নিজে এসে নিরাপত্তার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন।

আশ্বিনের কোজাগরী পূর্ণিমাকে ঘিরে শুরু হওয়া এই উৎসব চলে প্রতিপদের ভোর পর্যন্ত। কৃষ্ণ তৃতীয়ায় ঘট বিসর্জন এবং কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। মজার বিষয় হলো, প্রতি বছর একই কাঠামোয় প্রতিমা গড়া হয়।