স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) জমা দেওয়া ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকায় ব্যাপক অসন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট। অসম্পূর্ণ তালিকা জমা দেওয়ায় কমিশনকে রীতিমতো তুলোধনা করলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, স্রেফ নাম-ধাম দিলে হবে না, কোন প্রার্থী ঠিক কী ধরনের জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন, তার ‘সম্পূর্ণ’ ও ‘বিস্তারিত’ তালিকা ফের প্রকাশ করতে হবে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে আদালত।
আদালতের নজরে এসএসসির গাফিলতি: গত ১৯ নভেম্বর ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিগ্রস্ত বা ‘দাগি’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি সিনহা। সেই মতো ২৭ নভেম্বর ১৮০৬ জনের একটি ৫৪ পাতার তালিকা দেয় কমিশন। কিন্তু বুধবারের শুনানিতে আদালত দেখে, সেই তালিকায় দুর্নীতির ধরণ বা ‘ক্যাটাগরি’ উল্লেখ নেই। ক্ষুব্ধ বিচারপতির প্রশ্ন, “কারা র্যাঙ্ক জাম্প করেছেন, কারা প্যানেলের বাইরে থেকে চাকরি পেয়েছেন—এসব আলাদা করে বলতে পারছেন না কেন? তার মানে আপনাদের তালিকা সম্পূর্ণ নয়!”
নতুন তালিকায় কী কী থাকতে হবে? বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দিয়েছেন, ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে নয়া তালিকা আসবে তাতে থাকতে হবে:
-
জালিয়াতির ধরণ: ওএমআর শিট কারচুপি, র্যাঙ্ক জাম্প, অতিরিক্ত নিয়োগ না কি ম্যানিপুলেশন—তা স্পষ্ট করতে হবে।
-
বিস্তারিত পরিচয়: প্রার্থীর নাম, বাবার নাম, স্কুল, জেলা, বিষয় এবং জন্ম তারিখ।
-
নিয়োগ না পাওয়া ‘অযোগ্য’: যারা কারচুপি করেও নিয়োগ পাননি, তাদের নামও তালিকায় রাখতে হবে।
পাল্টা চালে ‘দাগি’ প্রার্থীরা: অন্যদিকে, এই মামলায় নতুন মোড় এনেছেন চাকরিহারা বা ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত প্রার্থীরা। তাদের দাবি, কোনো স্পষ্ট তথ্য ছাড়াই তাদের ‘টেন্টেড’ তকমা দিয়ে চাকরি থেকে সরানো হয়েছে। সিবিআই আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। তাদের আইনজীবীদের দাবি, “এরা সিস্টেমের শিকার, টেন্টেড শব্দের কোনো ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট দেয়নি।”
যোগ্য-অযোগ্যর লড়াই তুঙ্গে: মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও প্রতীক ধরের দাবি, গত ৬-৭ বছর ধরে যারা অযোগ্যভাবে চাকরি করছেন, তাদের মুখোশ পুরোপুরি খুলে দেওয়া জরুরি। কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এখন দেখার, ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসএসসি যে নতুন তালিকা প্রকাশ করে, তাতে আর কতজন প্রভাবশালী বা ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর নাম সামনে আসে। নিয়োগ দুর্নীতির এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।