ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের দুই প্রধান স্তম্ভ— ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ এবং ‘অমৃত ভারত’ এক্সপ্রেস। এই ট্রেনগুলিকে ঘিরে যাত্রীদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। কিন্তু ট্রেন দুটি ট্র্যাকে নামার আগেই নিজেদের নেওয়া বড় সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠল রেল মন্ত্রক। প্রিমিয়াম পরিষেবা বজায় রাখতে যে কড়াকড়ি নিয়ম চালুর কথা ছিল, তা থেকে সরে এসে পুরনো ব্যবস্থাতেই ফিরছে রেল।
কী ছিল রেলের আগের সিদ্ধান্ত? রেলের পক্ষ থেকে শুরুতে জানানো হয়েছিল, বন্দে ভারত স্লিপার এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেস হবে সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির। এখানে আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কেবল মহিলা, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি (Handicapped), সিনিয়র সিটিজেন এবং রেলের ডিউটি পাস হোল্ডারদের জন্য বিশেষ কোটা থাকবে। এমনকি ট্রেনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে এই ট্রেনগুলিতে কোনো আরএসি (RAC – Reservation Against Cancellation) ব্যবস্থা না রাখার পরিকল্পনা ছিল। অর্থাৎ, টিকিট কনফার্ম না হলে সেই যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারতেন না।
ভোলবদল: কেন এই পিছু হঠা? রেল সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তে বদল আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
-
RAC ব্যবস্থা ফিরছে: প্রিমিয়াম তকমা থাকলেও সাধারণ ট্রেনের মতোই এই দুই হাই-স্পিড ট্রেনে আরএসি (RAC) টিকিট ইস্যু করা হবে। ফলে একটি বার্থে দুজন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
-
সাধারণ কোটা: কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কিছু কোটা নয়, এখন থেকে সাধারণ ট্রেনের মতোই অন্যান্য সব ধরনের কোটা ও বুকিং সুবিধা এই ট্রেনগুলিতেও কার্যকর হবে।
কেন এই ইউ-টার্ন? বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রেল পরিষেবাকে রাখা এবং আসন খালি না রেখে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যেই রেল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রেলের এই ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী মনে করছেন, আরএসি ব্যবস্থা ফিরলে বন্দে ভারতের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের আভিজাত্য ও আরাম কিছুটা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
ভারতীয় রেলের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত যাত্রীদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও, ‘প্রিমিয়াম’ অভিজ্ঞতায় কতটা টান পড়বে, সেটাই এখন দেখার।