রেলমন্ত্রী থাকাকালীন টেন্ডার দুর্নীতি! লালু-রাবড়ি-তেজস্বীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার ধারায় চার্জ গঠন সিবিআই আদালতের

আইআরসিটিসি হোটেল দুর্নীতি মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেল যাদব পরিবার। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত সোমবার প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব, রাবড়ি দেবী, তেজস্বী যাদব এবং তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য ধারায় চার্জ গঠন করেছে। বিহারে নভেম্বর মাসে ভোটের আগে এই পরিস্থিতি যাদব পরিবার ও আরজেডি (RJD) দলকে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিবিআই-এর বিশেষ আদালত প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালু যাদব, তেজস্বী যাদব, রাবড়ি দেবী ও অন্যান্য অভিযুক্ত-সহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন। অভিযুক্তরা সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
কী অভিযোগ যাদব পরিবারের বিরুদ্ধে?
এই মামলার মূল অভিযোগগুলি হলো:
দুর্নীতি: লালু প্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন (২০০২-২০০৯ সালের মধ্যে) রাঁচি এবং পুরীর আইআরসিটিসি-র দুটি হোটেলের রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি দুটি সংস্থাকে দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দ করেছিলেন।
ষড়যন্ত্র: আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy), প্রতারণা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে।
ঘুষ: সিবিআই অভিযোগ করেছে যে এই চুক্তির বিনিময়ে, লালু সেই সময় সংস্থাদুটির থেকে প্রায় ৩ একর জমি অবৈধভাবে পেয়েছিলেন।
আদালত জানিয়েছে, ১৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের জন্য যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
যাদব পরিবারের প্রতিক্রিয়া
চার্জ গঠনের পর লালু প্রসাদ যাদব নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি গোটা বিষয়টির মোকাবিলা করবেন।
রাবড়ি দেবী এবং তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আইপিসির দুটি ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। তাঁরাও অভিযোগ অস্বীকার করে আইনিভাবে এর মোকাবিলা করার কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৭ জুলাই সিবিআই লালুর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে এবং পাটনা, নয়া দিল্লি, রাঁচি ও গুরুগ্রাম-এ লালু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত ১২টি জায়গায় অভিযান চালায়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত ও শুনানি চলার পর, ২৯ মে আদালত রায় সংরক্ষিত রেখেছিল। এখন এই চার্জ গঠনের ফলে বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল।