রেকর্ড ভেঙে সোনা-রূপার দামে ‘মহাপতন’-এর পূর্বাভাস! ৩০-৫০% দাম কমতে পারে, কবে কেনা নিরাপদ?

নয়া দিল্লি: ২০২৫ সালের শুরু থেকেই সোনা ও রূপার দামে যে লাগাতার বৃদ্ধি চলছিল, এবার তাতে বড়সড় পতনের পূর্বাভাস দিলেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। আকাশছোঁয়া দামে যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে গয়না, ঠিক তখনই এই মূল্যবৃদ্ধি ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে দাবি করছেন অনেকে। PACE 360-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস্ট অমিত গোয়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সোনা ও রূপার দামে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পতন হতে পারে।

কতটা দাম কমতে পারে?

১৫ অক্টোবর, ২২ ক্যারেট সোনা প্রতি গ্রাম ১১,৮৬০ টাকা ও এক ভরি ৯৪,৮৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আর রূপার দাম ছিল প্রতি কেজি ২,০৭,০০০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে অমিত গোয়েল মনে করছেন:

সোনার দাম: প্রায় ৩০-৩৫% কমতে পারে, যা দামকে প্রায় ৭৭,৭০১ টাকা (প্রতি ভরি)-তে নামিয়ে আনতে পারে।

রূপার দাম: প্রায় ৫০% কমতে পারে, যার ফলে মূল্য কমে ৭৭,৪৫০ টাকা (প্রতি কেজি)-র কাছাকাছি চলে আসতে পারে।

ইতিহাস বলছে, ২০০৭, ২০০৮ এবং ২০১১ সালের বড় উত্থানের পরেও সোনার দামে প্রায় ৪৫% পতন এসেছিল। গোয়েলের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম $২,৬০০-$২,৭০০ ডলারে নামলে তবেই তা আবার নিরাপদ ও বিশ্বব্যাপী সেরা বিনিয়োগের বিকল্প হবে।

সোনার চেয়েও বেশি রিটার্ন দিচ্ছে রূপা: কেন এই দাম বৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সোনার চেয়েও বেশি রিটার্ন দিয়েছে রূপা। গত দশ মাসে রূপার দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা সোনার চেয়ে ৩৭% বেশি লাভ দিয়েছে। তবে দামের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ব্যাপক ওঠানামা:

১৫ অক্টোবর, দিল্লিতে সোনার দাম ১,০০০ টাকা বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩১,৮০০ টাকা-য় পৌঁছয়।

একই দিনে, রেকর্ড স্তরের চেয়ে ৩,০০০ টাকা কমে রূপার দাম হয় প্রতি কেজি ১,৮২,০০০ টাকা (সমস্ত কর সহ)।

রূপার দাম বৃদ্ধির প্রধান ৩ কারণ:

১. শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা: সৌর প্যানেল, এআই (AI) শিল্প এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনে (EV) রূপার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা এর চাহিদা আকাশছোঁয়া করে তুলেছে। ২. উৎসবের মরসুমে চাহিদা: বিশ্বের বৃহত্তম রূপা ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভারত অন্যতম। দিওয়ালি ও ধনতেরাসের মতো শুভ অনুষ্ঠানে রূপার চাহিদা তুঙ্গে থাকে। ৩. সরবরাহে ঘাটতি: পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং কিছু খনি বন্ধের কারণে চাহিদা অনুযায়ী রূপার সরবরাহ হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ৭০% রূপা মূলত তামা ও জিঙ্কের মতো অন্য ধাতু খননের উপজাত হিসেবে উৎপাদিত হয়। তাই তামা খনন না বাড়লে রূপার সরবরাহ সীমিতই থাকবে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: এই মুহূর্তে রূপা কেনা কি সঠিক?
রেকর্ড মূল্যের কারণে বিশেষজ্ঞরা এই মুহূর্তে বেশি পরিমাণে রূপা কিনতে সাবধান করেছেন। যদিও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে রূপার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তবুও স্বল্পমেয়াদী ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকা উচিত।

কেডিয়া কমোডিটির ডিরেক্টর অজয় কেডিয়া মনে করেন, রূপার দাম ইতিমধ্যেই দ্বিগুণ হয়েছে, তাই এই পর্যায়ে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ কেনা উচিত নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে রূপা সোনার তুলনায় ভালো ফল দেবে বলে তাঁর পূর্বাভাস।

HDFC সিকিউরিটিজের কমোডিটি অ্যান্ড কারেন্সি বিভাগের প্রধান অনুজ গুপ্ত পরামর্শ দিচ্ছেন, রূপার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে, তাই দাম কমার সময় (Buy on Dips) বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

অমিত গোয়েল বিনিয়োগকারীদের এই পতনের জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই খবর শুধুমাত্র বাজার বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিনিয়োগ করার আগে নিজের ঝুঁকি বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy