রূপকথার শেষে রণক্ষেত্র! কুম্ভমেলার মালা বিক্রেতা থেকে নায়িকা হওয়ার মোনালিসার সফর কি এক প্রতারণার শিকার?

প্রয়াগরাজের ধুলোমাখা কুম্ভমেলা থেকে রুপালি পর্দার আলো—মোনালিসা ভোঁসলের এই রূপকথার সফর বুধবার এক নাটকীয় অথচ বেদনাদায়ক মোড় নিল। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তিরুবনন্তপুরমে দীর্ঘদিনের বন্ধু ফরমান খানকে বিয়ে করলেন মোনালিসা। আর এই পরিণয়ই এখন জন্ম দিয়েছে এক বিশাল সামাজিক ও আইনি বিতর্কের।

২০২৫-এর কুম্ভমেলায় মালা বিক্রির সময় পরিচালক সানোজ মিশ্রর নজরে পড়েন মোনালিসা। তাঁকে নায়িকা বানাতে গিয়ে সানোজ নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ও ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তৈরি করেন ‘দ্য ডায়েরি অফ মণিপুর’। সানোজের অভিযোগ, “মোনালিসাকে খ্যাতির আলোয় আনাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। ফরমানের লোভের কাছে আজ আমার দশ বছরের পরিশ্রম ধূলিসাৎ।” সানোজের বিস্ফোরক দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ এবং জেল খাটার নেপথ্যে ফরমানের গোষ্ঠীর হাত রয়েছে।

অন্যদিকে, মোনালিসা নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। পরিবারের বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তিনি আগেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় আইনি জট কাটিয়ে ফরমানের সাথে গাঁটছড়া বাঁধলেন তিনি।

মোনালিসার বাবা এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। থানার সামনে তাঁর অসহায় কান্নার ভিডিও এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল। একদিকে এক তরুণীর নিজের পছন্দে বাঁচার অধিকার, অন্যদিকে এক পরিচালকের সর্বস্বান্ত হওয়ার হাহাকার—মোনালিসার এই সিদ্ধান্ত এখন রূপালি পর্দার কাহিনীকেও হার মানাচ্ছে। বিষয়টি এখন ব্যক্তিগত গণ্ডি পেরিয়ে এক গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy