২০২৫ সালের শেষে যে রুপির দর তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল, ২০২৬-এর শুরুতেই সেই ছবিটা পাল্টাতে শুরু করেছে। টানা চার দিনের রক্তক্ষরণের পর ফের স্বমহিমায় ফিরছে ভারতীয় রুপি। বুধবার বিদেশি মুদ্রা বাজারে ডলারের তুলনায় রুপির দাম এক লাফে ৩১ পয়সা বেড়েছে। বাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৯ টাকা ৮৭ পয়সা।
কীভাবে এল এই সাফল্য? গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রুপির দর সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে (৯০.৭৫ টাকা) পৌঁছে গিয়েছিল। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পিছনে দুটি প্রধান কারণ দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা:
-
RBI-এর মাস্টারস্ট্রোক: বুধবার যখন ডলার ৯০.২৩ টাকার স্তরে পৌঁছে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল, তখনই ময়দানে নামে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বাজার সূত্রের খবর, বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করে রুপির পতন রুখে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, একতরফাভাবে টাকার দাম কমতে দেওয়া হবে না— এই বার্তাই দিয়েছে RBI।
-
সস্তা অপরিশোধিত তেল: ভারতের জন্য বড় সুখবর বয়ে এনেছে আন্তর্জাতিক বাজার। ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৬০.১০ ডলারে নেমে এসেছে। ভারত যেহেতু তেলের একটি বিশাল অংশ আমদানি করে, তাই তেলের দাম কমায় সাশ্রয় হচ্ছে বিদেশি মুদ্রা, যা সরাসরি শক্তি বাড়িয়েছে রুপির।
শেয়ার বাজারে ভিন্ন ছবি: রুপির মান বাড়লেও বুধবার দেশের শেয়ার বাজারে কিন্তু মেঘলা আকাশ দেখা গিয়েছে। সেনসেক্স ১০২.২০ পয়েন্ট কমে ৮৪,৯৬১-এর স্তরে এবং নিফটি ৩৭.৯৫ পয়েন্ট কমে ২৬,১৪০-এর স্তরে থিতু হয়েছে। বিদেশি লগ্নিকারীরা (FIIs) বাজার থেকে প্রায় ১০৭ কোটি টাকা তুলে নেওয়াই সূচক পড়ার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপির এই কামব্যাক আগামী দিনে দেশের আমদানিকৃত পণ্য ও জ্বালানির দামে স্বস্তি এনে দিতে পারে। এখন দেখার, ডলারের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুদ্রার এই জয়রথ কতদিন স্থায়ী হয়।