জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা। ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্রে শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাটি এখন রহস্যের ঘনঘটায় ঢাকা। যদিও প্রাথমিক তদন্তে এটিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ বলা হচ্ছে, কিন্তু ভক্ত এবং সহকর্মীদের মনে দানা বেঁধেছে একাধিক প্রশ্ন। ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত বিকেলে?
৫টি অমীমাংসিত প্রশ্ন: ১. কতক্ষণ নিখোঁজ ছিলেন? শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল ঠিক কতক্ষণ একা সমুদ্রের জলে ছিলেন? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না। ২. উদ্ধারের পর অবস্থা: ইউনিটের সদস্যরা দাবি করেছেন, জল থেকে তোলার সময়ও রাহুলের হৃদস্পন্দন ছিল। তবে কি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে তাঁকে বাঁচানো যেত? ৩. নিরাপত্তা বিধি: গভীর সমুদ্রে বা সমুদ্রের ধারে শুটিংয়ের সময় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম কি মজুত ছিল? কেন তাঁকে একা জলে নামতে দেওয়া হলো? ৪. হৃদ্রোগ নাকি ডুবে যাওয়া? হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, পথে যাওয়ার সময় সম্ভবত তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তবে কি আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি? ৫. শুটিংয়ের চাপ: ইউনিটের কোনো সদস্য দাবি করেছেন, কাজ হারানোর ভয়ে নাকি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়েছিলেন রাহুল। এর সত্যতা ঠিক কতটা?
তদন্তের গতিপ্রকৃতি: দিঘা এবং ওড়িশা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পরিবার। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—সকলেই এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-খ্যাত এই নায়কের মৃত্যু রহস্য কি কোনোদিন পরিষ্কার হবে?