রাহুলের পর এবার তেজস্বী! বিহার অধিকার যাত্রা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ

রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র পর এবার বিহারের ভোটমুখী রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়াতে ‘বিহার অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন তেজস্বী যাদব। যাত্রার দ্বিতীয় দিনে তিনি বর্তমান শাসকদল জেডিইউ-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছেন। তেজস্বীর দাবি, “বিহারের মানুষ সরকারের উপর ক্ষুব্ধ, বিহার অধিকার যাত্রা পাটনায় ঝড় তুলে দিয়েছে।”
আরজেডি সাংসদ সঞ্জয় যাদব জানিয়েছেন, যেসব জেলায় রাহুল গান্ধীর যাত্রা পৌঁছায়নি, তেজস্বী সেইসব জায়গায় যাত্রা করছেন। তাঁদের এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো— “বিহারকে নতুন করে গড়া, যুবসমাজের জন্য চাকরি ও কর্মসংস্থান, নারীদের অধিকার, শিক্ষকদের সম্মান এবং রাজ্যে শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ।” মঙ্গলবার জেহানাবাদ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা বেগুসরাই, খাগারিয়া, মাধেপুরা-সহ একাধিক জেলা ঘুরে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বৈশালীতে শেষ হবে।
গিরিরাজ সিংয়ের পালটা আক্রমণ
তেজস্বীর এই যাত্রাকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবকে নিয়ে তেজস্বীজি এই যাত্রার মাধ্যমে বিহারের আসল উন্নয়ন দেখতে পাবেন।” তিনি আরও বলেন, “লালু প্রসাদ যাদব বিহারের মানুষকে বলতেন, আপনারা বিদ্যুৎ বা ভালো রাস্তা নিয়ে কি করবেন? এখন নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে নীতীশ কুমার বিহারের কি আমূল পরিবর্তন করেছেন, তেজস্বী যাদব তা চাক্ষুষ করতে পারবেন।”
প্রসঙ্গত, জন সূরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবকে “মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া মেশিন” বলে মন্তব্য করেছেন।
চলতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২৪৩টি আসনের মধ্যে বর্তমানে এনডিএ জোটের দখলে ১৩১টি আসন এবং আরজেডির দখলে ৮০টি আসন রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে এনডিএ এবং তেজস্বীর নেতৃত্বে ইন্ডি জোটের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।