‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে বরখাস্ত চিকিৎসক ফের নজরে! জইশ মডিউলের সঙ্গে কী সম্পর্ক, তদন্তে এনআইএ

ফরিদাবাদের জঙ্গি চক্র (Faridabad Terror Module) এবং লালকেল্লা বিস্ফোরণ-মামলায় (Red Fort Blast) যুক্ত ‘হোয়াইট-কলার’ জইশ-ই-মহম্মদ মডিউলের (JeM Module) তদন্ত করতে গিয়ে ফের সামনে এলো কাশ্মীরের আলোচিত চিকিৎসক ডাঃ নিসার উল হাসান-এর নাম। শ্রীনগরের এসএমএইচএস হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নজরে ছিলেন।
বিতর্কিত অতীত ও বরখাস্ত: সোপোরের আচাবল গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ নিসার উল হাসান তাঁর স্পষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অতীতের মন্তব্য ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা মহলের সন্দেহের কেন্দ্রে ছিলেন। একসময় লেফটেন্যান্ট গভর্নর তাঁকে ‘টিকিং টাইম বম্ব’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। মূলত ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংবিধানের ৩১১(২)(সি) ধারায় তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত (Suspend) করা হয়।
ডাঃ নিসার ছিলেন চিকিৎসকদের সংগঠন ডিএকে-এর সভাপতি। ২০১৩ সালে জাল ওষুধ কাণ্ড এবং ২০১৪ সালে সরকারি কর্মীদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উসকানি দেওয়ার মতো মন্তব্যের জন্য তিনি তীব্র বিতর্কের জন্ম দেন এবং সে সময়ও তাঁকে একবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যোগসূত্র: বর্তমানে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করা ডাঃ নিসার এখন নতুন করে নজরে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডাঃ মহম্মদ উমর নবি, যাঁকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি লালকেল্লা বিস্ফোরণ ষড়যন্ত্রের অন্যতম মাথা বলে সন্দেহ করছে। উমর নবী প্রায় এক বছর ডাঃ নিসারের তত্ত্বাবধানে কাজ করেছিলেন। তদন্তকারীরা এখন তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি এবং যোগাযোগের বিশদ খতিয়ে দেখছেন।
স্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবি: সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাঃ নিসারের স্ত্রী ডাঃ সুরাইয়া জানিয়েছেন, উমর নবির সঙ্গে তাঁর স্বামীর সম্পর্ক মধুর ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন যে, নবি চিকিৎসায় অনিয়মিত ছিলেন, রোগী দেখতেন না, যার ফলে তাঁকে অন্য ওয়ার্ডে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, ডাঃ নিসার ‘পালিয়ে বেড়াচ্ছেন’—এই খবর ভুল। তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনআইএ (NIA) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রকেও তদন্তের স্বার্থে ডাকা হয়েছে বলে তিনি জানান।