দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফোনালাপকে কেন্দ্র করে বুধবার জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেবে। এই নিয়ে গত ছয় দিনে চারবার ট্রাম্প ভারতের জ্বালানি নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।
কংগ্রেস সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেছে, “প্রধানমন্ত্রী যা লুকিয়ে রাখেন, ট্রাম্প তা প্রকাশ করে দেন।”
কংগ্রেসের তোপ: ‘ট্রাম্প ৪ বার ভারতের নীতি ঘোষণা করেছেন’
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শুধু বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু মিস্টার মোদী যা গোপন করেন, মিস্টার ট্রাম্প তা প্রকাশ করে দেন।”
রমেশ আরও যোগ করেন, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে সেই আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। জয়রাম রমেশের দাবি, “গত ছয় দিনে এই নিয়ে চতুর্থবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের নীতি ঘোষণা করলেন।”
মোদী কী বলেছিলেন?
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ধন্যবাদ দিয়ে দুই গণতন্ত্রের মধ্যে সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক তার আগে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভারত রাশিয়া থেকে ‘বেশি তেল কিনবে না’।
তবে দিল্লি বারবার অস্বীকার করেছে যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানো নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়েছে। এর আগে ১০ মে ট্রাম্প ‘অপারেশন সিন্দূর’ নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন, যার পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি আসেনি।
ভারতের অবস্থান:
ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে ডিসকাউন্টেড অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো— দেশীয় জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এই আমদানি অপরিহার্য। যদিও আমেরিকা এবং ইউরোপ ক্রমাগত ভারতকে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে চাপ দিয়ে চলেছে।