রাশিয়ার তেলের গন্তব্য কি এবার মোদীর ভারত? মার্কিন নিষেধাজ্ঞার রক্তচক্ষু এড়িয়ে মাঝসমুদ্রে ভোলবদল!

অনেকটা গোয়েন্দা গল্পের মতো। মাঝসমুদ্রে আচমকাই নিজেদের জিপিএস (GPS) এবং গন্তব্যস্থলের নাম বদলে ফেলল সাত-সাতটি বিশাল রুশ তেলবাহী জাহাজ। লক্ষ্য একটাই— ভারত। বিশ্বজুড়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ির মধ্যেই রাশিয়ার এই ‘তেল-কূটনীতি’ এবং ভারতের সাহসী অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ভোলবদলের নেপথ্যে কি তবে ওয়াশিংটনের কোনো গোপন সংকেত রয়েছে?

মাঝসমুদ্রে ঠিক কী ঘটল? আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকারদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সাতটি বিশালাকার অয়েল ট্যাঙ্কার (Oil Tankers) শুরুতে তাদের গন্তব্য গোপন রেখেছিল অথবা অন্য দেশের নাম উল্লেখ করেছিল। কিন্তু ভারত মহাসাগরে প্রবেশের আগেই নাটকীয়ভাবে সেগুলোর গন্তব্য বদলে হয় গুজরাটের জামনগর এবং ভাদিনার বন্দর। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং বিমা সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজের কৌশল নিয়েছে মস্কো।

নেপথ্যে কি মার্কিন সংকেত? রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর ‘প্রাইস ক্যাপ’ বা দামের ঊর্ধ্বসীমা নিয়ে কিছুটা নরম অবস্থান নিয়েছে।

  • ভারতের গুরুত্ব: আমেরিকা জানে, ভারত যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • গোপন সমঝোতা: তাই কি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে ভারত ও রাশিয়ার এই বাণিজ্যকে ‘নীরব সমর্থন’ দিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন? দিল্লির কূটনীতিবিদদের মতে, ভারতের জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই পথে হাঁটছে কেন্দ্র।

ডিসকাউন্টেই কি বাজিমাত? ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ায়, রাশিয়া এখন ভারতকে ব্যাপক ছাড়ে (Discount) অশোধিত তেল সরবরাহ করছে। এই ৭টি জাহাজে কয়েক লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে।

চ্যালেঞ্জ এখনও বাকি: যদিও জাহাজগুলো ভারতের পথে, তবুও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কড়া নজর রাখছে এই লেনদেনের ওপর। বিশেষ করে পেমেন্ট সিস্টেম বা লেনদেনের মুদ্রা (রুপি-রুবল না কি দিরহাম) কী হবে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা তুঙ্গে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy