“রামের ট্রেলারে হনুমানের অনুপস্থিতি!”-নীতীশ তিওয়ারির মেগা প্রজেক্ট দেখে চরম হতাশা প্রকাশ লেখকের

চলতি বছরের দীপাবলিতে মুক্তি পেতে চলা পরিচালক নীতীশ তিওয়ারির অত্যন্ত প্রতীক্ষিত মেগা প্রজেক্ট ‘রামায়ণ: পার্ট ১’-এর প্রথম ঝলক বা ট্রেলার ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। গত ৩০ জুলাই একেবারে ব্রহ্মমুহূর্তে, অর্থাৎ ভোর ৪টে ১৫ মিনিটে নির্মাতারা এই ট্রেলারটি রিলিজ করেন। পৌরাণিক মহাকাব্যের চেনা জগতকে আধুনিক ভিএফএক্স ও গ্রাফিক্সের মোড়কে বড়পর্দায় ফুটিয়ে তোলার এই মহাযজ্ঞে ভগবান রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী, লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে এবং লঙ্কাধাপতি রাবণের ভূমিকায় দক্ষিণী সুপারস্টার যশকে দেখা গিয়েছে। সিনেমাটি সম্পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পরই মূল মহাকাব্যের কাহিনীর সঙ্গে ছবির মিল বা অমিল পুরোপুরি স্পষ্ট হবে, তবে ট্রেলারটি সামনে আসার পর থেকেই বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

লেখক ডক্টর সমুদ্র বসুর মতামত ও হতাশা

বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পৌরাণিক গবেষণা নিয়ে কাজ করা জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক ডক্টর সমুদ্র বসু এই ট্রেলার দেখে নিজের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ট্রেলার থেকে আদ্যোপান্ত পুরাণ বা মহাকাব্যকে বিকৃত করা হয়েছে কি না তা এখনই পুরোপুরি বোঝা না গেলেও, এর সামগ্রিক অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং কিছু কিছু জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ব্যবহার অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তবে এর পাশাপাশি তিনি নিজের হতাশার কথাও গোপন রাখেননি। লেখকের স্পষ্ট বক্তব্য, “রামায়ণের ট্রেলারে হনুমানের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় চরিত্রের অনুপস্থিতি দেখে বেশ হতাশ লেগেছে। কারণ, রামায়ণ মহাকাব্য হনুমানের উপস্থিতি ছাড়া কোনওভাবেই সম্পূর্ণতা লাভ করতে পারে না।” এছাড়া রাম চরিত্রের তুলনায় রাবণ চরিত্রের নান্দনিক উপস্থাপন তাঁকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানিয়েছেন ডক্টর বসু। তাঁর মতে, রাবণের অভিনয়শৈলী, কথা বলার ভঙ্গি, রাজকীয় পোশাক এবং আধুনিক ভিজ্যুয়াল এফেক্টস—সবকিছু মিলিয়ে রাবণ চরিত্রে সুপারস্টার যশ পর্দার মূল আকর্ষণ হিসেবে অনেক বেশি শক্তিশালী ও নজরকাড়া হয়ে উঠেছেন।