রামের আগে এই ৪ মহাবলীর কাছে গোঁ হারায় রাवण! অহংকার চূর্ণ করে লঙ্কাধিপতিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিলেন কারা?

রামায়ণে লঙ্কাপতি রাবণকে এক অত্যন্ত শক্তিশালী, পন্ডিত এবং শিবের পরম ভক্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিজের কঠিন তপস্যা ও বরফলের জোরে সে ত্রিলোকজয়ী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এই বিপুল ক্ষমতা আর বর প্রাপ্তির অহংকারই ধীরে ধীরে তাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। রাবণের মনে বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছিল যে, ত্রিজগতে তাকে হারানোর সাধ্য কারও নেই। কিন্তু পৌরাণিক কাহিনী ও লৌকিক ইতিহাস ঘাঁটলে এমন বহু চাঞ্চল্যকর ঘটনার হদিশ মেলে, যেখানে প্রভু শ্রীরামের হাতে বধ হওয়ার বহু আগেই রাবণকে একাধিক মহাশক্তিশালী বীরের কাছে চরম পরাজয়ের স্বাদ ও অবমাননা সহ্য করতে হয়েছিল।

পৌরাণিক সূত্র অনুযায়ী, লঙ্কাপতি রাবণের অহংকার চূর্ণ করেছিলেন এমন চার প্রধান মহাবালী:

১. রাজা বলি: অসুর রাজ হলেও অত্যন্ত পরাক্রমশালী ও দাতা হিসেবে পরিচিত রাজা বলির কাছে একবার চরম পরাস্ত হতে হয়েছিল রাবণকে। বলির শক্তির সামনে খর্ব হয়েছিল লঙ্কার রাজার অহংকার। ২. সহস্রজুন (কার্তবীর্য অর্জুন): হাজার বাহু বিশিষ্ট মাহিষ্মতীর সম্রাট কার্তবীর্য অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধে রাবণ শোচনীয়ভাবে হেরে যান এবং তাঁকে বন্দী পর্যন্ত হতে হয়েছিল। ৩. বানররাজ বালি: কিষ্কিন্ধার শক্তিশালী রাজা বালির বাহুবলের কথা কার না জানা! একবার বালির শক্তির মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়েছিল লঙ্কাপতিকে। ৪. দেবাদিদেব মহাদেব (শিব): নিজের শক্তির অহংকারে কৈলাশ পর্বত তুলতে যাওয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছিলেন রাবণ। কিন্তু মহাদেবের হাতের সামান্য চাপে পর্বতের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। পরে ভক্তিভরে স্তব করে প্রাণে বেঁচেছিলেন রাবণ।

রামের হাতে অন্তিম পরিণতি বরণের বহু আগেই যে লঙ্কাপতির অপরাজেয় তকমা বেশ কয়েকবার খসে পড়েছিল, পৌরাণিক এই গল্পগুলি তারই এক রোমহর্ষক ও অজানা ইতিহাস।