‘২০ টাকায় এত কম কেন?’ প্রশ্ন করায় ছাত্রের মুখে ফুটন্ত কড়াইয়ের তেল ঢেলে দিল বিক্রেতা! গোয়ালিয়রে চাঞ্চল্য

মাত্র কুড়ি টাকার মোমোর পরিমাণ কম দেওয়া নিয়ে চরম ক্রেতা-বিক্রেতা দ্বন্দ্ব এবং তার জেরে এক নৃশংস অপরাধের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র (Gwalior)। প্লেটে মোমোর সংখ্যা কম দেখে এক ১৮ বছর বয়সী কলেজছাত্র বিক্রেতাকে প্রশ্ন করায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অভিযুক্ত দোকানদার কড়াই থেকে ফুটন্ত তেল তুলে সরাসরি ওই ছাত্রের মুখ ও কানের ওপর ছুঁড়ে মারে। এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর জখম অবস্থায় ওই ছাত্র বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় গোয়ালিয়রের হাজিরা থানা এলাকার ওল্ড রেশম মিল মোড়ের কাছে এই ঘটনা ঘটে। নিউ রেশম মিল এলাকার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী শিবা ওরফে চেতন ভাদোরিয়া নামের ওই ছাত্র তাঁর দুই বন্ধু গোলু খান এবং বিকাশ রাজপুতের সঙ্গে জিমে যাওয়ার পথে একটি দোকানে থামেন এবং অঙ্কিত নামের এক বিক্রেতার ঠেলাগাড়ি থেকে ২০ টাকার মোমো কেনেন।
প্লেটে মোমোর পরিমাণ অস্বাভাবিক কম দেখে শিবা দোকানদার অঙ্কিতকে শান্তভাবে প্রশ্ন করেন, “২০ টাকায় এত কম মোমো কেন?” আর এই সাধারণ প্রশ্নটিই নিমেষে এক ভয়ঙ্কর বিবাদের সূত্রপাত ঘটায়।
ফুটন্ত তেলের বর্বরোচিত আক্রমণ অভিযোগ, প্রশ্ন করার পরেই দোকানদার অঙ্কিত ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। শিবা এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্রেতা তাঁকে ধাক্কাধ্যস্তি ও মারধর করতে শুরু করে। এরপরই রাগের মাথায় অন্ধ হয়ে অঙ্কিত মোমো ভাজার কড়াই থেকে ফুটন্ত গরম তেল তুলে সরাসরি শিবার মুখ ও কানের দিকে ছুঁড়ে মারে। গরম তেলে ছাত্রটির মুখ ও কান মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং সে যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় শিবার বন্ধুরা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত খবর পাঠালে ছাত্রটির বাবা সেখানে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে আহত ছাত্রটি চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও পলাতক অভিযুক্ত হাজিরা থানার স্টেশন হাউস অফিসার জিতেন্দ্র সিং তোমর জানিয়েছেন, আহত ছাত্র এবং তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মোমো বিক্রেতা অঙ্কিতের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বিক্রেতা পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। তুচ্ছ কারণে ঘটা এই অমানবিক ও নৃশংস ঘটনা গোটা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।