আগামীকাল, ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রামনবমী। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও প্রশাসন। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, উৎসব পালনে কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে দেওয়া যাবে না।
হাইকোর্টের প্রধান নির্দেশিকা: সম্প্রতি ‘অঞ্জনি পুত্র সেনা’ এবং ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (VHP)-এর করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালত নির্দিষ্ট কিছু শর্তারোপ করেছে:
-
অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ: মিছিলে কোনওরকম আসল অস্ত্র বা লাঠি ব্যবহার করা যাবে না। কেবল পিভিসি (PVC) দিয়ে তৈরি প্রতীকী অস্ত্র বা পতাকা ব্যবহার করা যাবে।
-
অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা: কোনও মিছিলেই এককালীন ৫০০ জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবেন না।
-
সময়ের বিধিনিষেধ: হাওড়ায় ভিএইচপি-র মিছিল দুপুর ৩টে থেকে ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। অন্যদিকে, সংঘর্ষ এড়াতে অন্য সংগঠনের মিছিলকে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
একই রুট: গত বছর যে রুট দিয়ে মিছিল গিয়েছিল, সেই একই রুট বজায় রাখতে হবে। মাঝপথে কোনও জায়গায় দীর্ঘক্ষণ জমায়েত করা যাবে না।
-
ডিজে ও উস্কানিমূলক স্লোগান: মিছিলে কোনওভাবেই ডিজে ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনও উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া যাবে না।
প্রশাসনের তৎপরতা: রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। হাওড়া ও হুগলির স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে বহুতলের ছাদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যায় রাজ্য পুলিশ ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করলে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।