মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আবহে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— দেশে কি রান্নার গ্যাসের আকাল দেখা দেবে? সাধারণ মানুষের এই দুশ্চিন্তা দূর করতে এবার মুখ খুলল দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC)। শুক্রবার সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে দেশের বর্তমান এলপিজি (LPG) মজুত এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্পষ্ট করা হয়েছে।
মজুত নিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েলের আশ্বাস: ইন্ডিয়ান অয়েল জানিয়েছে, রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
পর্যাপ্ত মজুত: দেশের সমস্ত বটলিং প্ল্যান্ট এবং ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ এলপিজি মজুত রয়েছে।
আমদানি সচল: লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার প্রভাব যাতে ভারতের গ্যাস সরবরাহে না পড়ে, তার জন্য বিকল্প রুট এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে আমদানির কাজ সচল রাখা হয়েছে।
নির্বিঘ্ন সরবরাহ: গ্রাহকদের বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই এবং বুকিংয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কেন ছড়াচ্ছিল আতঙ্ক? ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের আকাল হতে পারে বলে গুজব ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের চা-বলয় থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের শহরতলি এলাকায় সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছিল কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ইন্ডিয়ান অয়েলের এই বিবৃতির ফলে সেই কালোবাজারি রুখতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের জন্য বার্তা: সংস্থার পক্ষ থেকে গ্রাহকদের অনুরোধ করা হয়েছে তাঁরা যেন অকারণে প্যানিক বুকিং (Panic Booking) না করেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বুকিং অ্যাপ এবং হেল্পলাইন নম্বরগুলো চব্বিশ ঘণ্টা সচল রাখা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান অয়েলের এই সময়োপযোগী ঘোষণা মধ্যবিত্তের হেঁশেলের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের এলপিজি পরিকাঠামো এখন অনেক বেশি শক্তিশালী, এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।





