মানুষের মতো ঘটা করে মহিষের জন্মদিন পালন! কেক কেটে সেলিব্রেশন দেখে চোখ কপালে তুলবে নেটপাড়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন কতশত অদ্ভুত ও মজার ভিডিওই না ভাইরাল হয়। কিন্তু সম্প্রতি ইন্টারনেটে যে ভিডিওটি ঝড় তুলেছে, তা দেখে যে কারও চোখ ছানাবড়া হয়ে যেতে বাধ্য। একটি পোষা মহিষের জন্মদিন এত জাঁকজমকপূর্ণ এবং ধুমধাম করে উদযাপন করা যেতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ছোট বাচ্চাদের জন্মদিনে যেমন ঘটা করে নানা আয়োজন করা হয়, ঠিক তেমনই এক বিরাট আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রিয় পোষ্য মহিষটির জন্য। পার্টিতে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সাজসজ্জা—কোনো কিছুতেই কোনো কমতি রাখা হয়নি।

ভাইরাল হওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বল্লিয়া জেলার বাদগাঁও মানিয়ার এলাকায়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, আদরের পোষ্য মহিষটির নাম ‘বাসন্তী’। তার পঞ্চম জন্মদিন উপলক্ষেই এই এলাহি কাণ্ডের আয়োজন করেছিলেন গোরখ বর্মা নামের এক ব্যক্তি। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বাসন্তীকে পরানো হয়েছিল একটি সুন্দর জন্মদিনের টুপি, গলায় পরানো হয়েছিল তাজা ফুলের সুদৃশ্য মালা এবং শরীরে জড়ানো হয়েছিল একটি চকচকে দৃষ্টিনন্দন কাপড়। শুধু তাই নয়, টেবিলে রাখা হয়েছিল পরপর দুটি বড় কেক! বেলুন ও রঙিন কাগজ দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থল জমকালোভাবে সাজানো হয়েছিল।

চারপাশে উপস্থিত গ্রামবাসীরা উৎসাহের সঙ্গে হাততালি দিয়ে গেয়ে ওঠেন ‘হ্যাপি বার্থডে’ গান। এরপর সবাই মিলে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ‘হ্যাপি বার্থডে ভৈঁসিয়া’ ও ‘হ্যাপি বার্থডে বাসন্তী’ বলে শুভেচ্ছা জানান। কেক কাটার পর পরম যত্নে বাসন্তীকে কেক এবং কলা খাইয়ে দেন তার মালিক। এই অভিনব জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে পুরো গ্রাম উপচে পড়েছিল। মানুষের এই উচ্ছ্বাস এবং উন্মাদনা ছিল এককথায় চোখে পড়ার মতো। কেক কাটার পরপরই উৎসবে মেতে ওঠা লোকজন বাসন্তীর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন।

এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে @menirbhay93 নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই মজার ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “একটি মহিষের পঞ্চম জন্মদিন উদযাপন। বলিয়ার বারগাঁও মানিয়ারে গোরখ বর্মা মহা ধুমধাম করে তাঁর মহিষটির পঞ্চম জন্মদিন পালন করেছেন। তিনি কেক কেটেছেন এবং আশেপাশের লোকজনের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।” মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে এবং কমেন্ট বক্স নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ায় ভরে যায়। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “বলিয়ার মানুষগুলোর মন সত্যিই খুব পরিষ্কার ও ভালো।” অন্য একজন লিখেছেন, “পশুরা অনেক সময় মানুষের চেয়েও বেশি বিশ্বস্ত ও ভালোবাসার যোগ্য হয়।” অন্য এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “আজকালের দুনিয়ায় মানুষ বড্ড অহংকারী হয়ে উঠেছে, অথচ এই ভালোবাসাগুলোই আসল।”