রাতের অন্ধকারে ভয়ঙ্কর কাণ্ড! মালদার জালালপুরে লরি-স্করপিওর মুখোমুখি সংঘর্ষে ছড়াল আতঙ্ক

মালদার কালিয়াচকের জালালপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। স্করপিও এবং একটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের জেরে ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসিকতা ও পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে একটি স্করপিও গাড়িতে করে মোট পাঁচজন যাত্রী মালদহ থেকে কালিয়াচকের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কালিয়াচক থানার জালালপুরের সিস হাসপাতালের সামনে পৌঁছানোমাত্রই আচমকাই গাড়িটির ব্রেক ফেল হয়ে যায় বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিও গাড়িটি সজোরে রাস্তা পার করে উল্টোদিকের লেনে চলে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ভারী লরির সঙ্গে স্করপিওটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ধাক্কা খাওয়ার পর স্করপিওটি আবার নিজের লেনে ছিটকে পড়ে এবং গাড়িটির সামনের অংশ কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে চুরমার হয়ে যায়। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এলাকাবাসী।

হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে গাড়ির ভেতরে আটকে থাকা পাঁচজন যাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে সুজাপুর প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি চারজন গুরুতর আহত ব্যক্তির চিকিৎসা বর্তমানে হাসপাতালে চলছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

উল্লেখ্য, ঠিক কিছুদিন আগেই বাঁকুড়ার জয়পুরে এমন আরেকটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। বাঁকুড়া আরামবাগ দুই নম্বর রাজ্য সড়কের জয়পুর থানার সলদা মোড় সংলগ্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির কোনো অজানা গাড়ি দুটি বাইককে ধাক্কা মেরে চম্পট দেওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছিল। একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।