রাজ্যে শিল্পের মহাযজ্ঞ! জট কাটাতে বড় ঘোষণা নবান্নের, আমূল বদলাচ্ছে জমির নিয়ম!

রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে এবং শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করতে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি নতুন ও যুগান্তকারী শিল্প নীতি প্রকাশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, নতুন এই নীতি কার্যকর হলে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমির ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি জটিলতা থেকে বিনিয়োগকারী ও শিল্প ইউনিটগুলো উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবে। বিশেষ করে, শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে আইনসম্মতভাবে কেনা জমির ক্লাসিফিকেশন বা রূপান্তর সংক্রান্ত নিয়মে কিছু নির্দিষ্ট ও বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হতে পারে, যা দীর্ঘদিনের লালফিতের ফাঁস থেকে মুক্তি দিতে পারে শিল্পমহলকে।
বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিশাল এলাকা জুড়ে জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় করা হলেও পরবর্তীতে দেখা যায় তার কিছু অংশে ছোটখাটো জলাশয় বা জলাধার রয়েছে। বর্তমান কঠোর নিয়মে শিল্পকাজে ওই সমস্ত জলাশয় ব্যবহার করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা অনেক সময়ই বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। তবে নতুন শিল্প নীতিতে প্রস্তাবিত ছাড়গুলি অন্তর্ভুক্ত হলে এই ধরনের জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতা অনেকটাই হ্রাস পাবে। অবশ্য প্রশাসনিক সূত্রে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, এই বিশেষ সুবিধাগুলি কেবল উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের শিল্প ইউনিটগুলির জন্যই প্রযোজ্য হবে এবং লাভজনক রিয়েল এস্টেট খাতকে এই সুবিধার সম্পূর্ণ আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শিল্পের জন্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের জমি উপলব্ধ করা রাজ্য সরকারের কাছে একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, আদিবাসী জমি হস্তান্তরের আইনি বিধান অত্যন্ত কঠোর এবং আইন অনুযায়ী আদিবাসী সম্প্রদায় ব্যতিরেকে অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর কাছে এই ধরনের জমি হস্তান্তর করা বা বেচাকেনা করা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে এই স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে সরকারের নীতি অত্যন্ত সতর্কতামূলক থাকছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগকে ব্যাপক উৎসাহ দিতে খুব শীঘ্রই একটি সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক বিজনেসের আয়োজন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। অতীতে আয়োজিত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী কনক্লেভগুলির বিপরীতে এইবারের অনুষ্ঠানটি বেশ সংক্ষিপ্ত এবং সরাসরি ফলপ্রসূ হবে বলে জানা গেছে। এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে মোট ৩৩টি ভিন্ন শিল্প ইউনিটকে সরাসরি জমির অফিশিয়াল নথিপত্র বা অ্যালটমেন্ট লেটার হস্তান্তর করা হবে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে এই ৩৩টি শিল্প ইউনিটকে জমি বরাদ্দের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপগুলির ফলে রাজ্যে প্রায় ৬৮,৫৮৪টি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষমহলের মতে, শিল্প উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সহজলভ্য জমির প্রাপ্যতা অত্যন্ত অপরিহার্য। তাই বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত আইনি বাধা ও দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার পাশাপাশি থমকে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কঠোর প্রতিশ্রুতি নিয়েছে সরকার। প্রশাসনিক মহলের বিশ্বাস, উন্নত পরিকাঠামো এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।