রাজ্যে বড় অদলবদল! সরকার গড়তেই ডিএ ও বেতন নিয়ে মোদীর ‘গ্যারান্টি’ পূরণ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল একপ্রকার নিশ্চিত এবং নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা ও আর্থিক দাবিদাওয়া মেটার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে, সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) কার্যকর হওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা এবার কাটতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্যারান্টি’ ও সপ্তম বেতন কমিশন:
নির্বাচনী প্রচারের সময় পূর্ব মেদিনীপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘ছয়টি গ্যারান্টি’-র মধ্যে অন্যতম ছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর বৈষম্য দূর করা। বর্তমানে জনরায় স্পষ্ট হতেই কর্মচারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে। সূত্রের খবর, আগামী ৯ তারিখেই বেতন কাঠামো পুনর্গঠন ও বকেয়া ভাতা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে।
কেন আটকে ছিল সপ্তম বেতন কমিশন?
কেন্দ্রীয় সরকার বহু বছর আগেই সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়িত করলেও পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘকাল ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশেই আটকে ছিল। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রাজ্য কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা এবং তহবিল বরাদ্দের অভাবকে দায়ী করা হয়েছিল। যদিও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য অভিন্ন বেতন কমিশন থাকার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই, তবুও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে বেতন ও মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে দীর্ঘকাল আন্দোলন চালিয়েছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় সেই আর্থিক বাধা দ্রুত দূর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের হাতছানি:
রাজ্য যখন সপ্তম বেতন কমিশনের দ্বারপ্রান্তে, তখন জাতীয় স্তরে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে মোদী সরকার। সম্প্রতি দিল্লিতে জাতীয় পরিষদের (NC-JCM) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বেতন সংশোধন ও অবসরকালীন সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে অষ্টম বেতন কমিশন গঠিত হবে এবং আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে। এমতাবস্থায়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার যদি দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করে, তবেই বাংলার কর্মচারীরা জাতীয় স্তরের সমতুল্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে থেকে বর্ধিত বেতন কর্মীদের অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করে।