রাজ্যে ফের ভুয়ো ভোটারের হদিশ, সিইও দফতরে তলব তিন ERO-কে, তালিকা তৈরিতে গাফিলতির অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিল। নতুন নাম সংযোজনের সময় নমুনা সমীক্ষায় (লিস্ট চেকিং) একাধিক ভুয়ো ভোটারের হদিশ মিলেছে বলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে খবর। এই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তিনজন ইলেক্ট্ররাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (ERO) ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

সিইও দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ময়না (পূর্ব মেদিনীপুর), বারুইপুর (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) এবং রাজারহাট (উত্তর ২৪ পরগনা) বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকা পরীক্ষা করার সময় এই গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ইলেক্ট্ররাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা ১১০ জন ভোটারের নথি যথাযথভাবে যাচাই করেননি। এই গাফিলতির কারণেই ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে সিইও দফতরে ডেকে পাঠানো হয় ওই তিন ERO-কে এবং তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তালিকা তৈরির সময় কেন এত বড় ভুল হলো, সে বিষয়ে আধিকারিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। এই ঘটনা ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি, নির্বাচন কমিশন রাজ্যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য হল ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করা। এর মধ্যেই নতুন নাম সংযোজন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ভোটারের হদিশ মেলায় কমিশনের এই উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তালিকা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে হবে।