বাংলায় ঐতিহাসিক শাসন পরিবর্তনের পর এবার বড়সড় রদবদল ঘটে গেল আইনি ক্ষেত্রেও। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরেই কলকাতা হাইকোর্টে পুরনো জমানার রাজ্য সরকারি প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা একে একে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি আটকে যাচ্ছিল। এবার সেই অচলাবস্থা কাটাতে নতুন রাজ্য সরকারের পরামর্শে কলকাতা হাইকোর্টের শূন্য সরকারি পদগুলিতে একঝাঁক নতুন আইনজীবীকে নিযুক্ত করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।
কারা এলেন কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে?
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের পক্ষে লড়াই করার জন্য আইনি প্যানেল সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হয়েছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা:
অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (Additional AG): সিনিয়র আইনজীবী তথা প্রাক্তন ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার-কে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
গভর্নমেন্ট প্লিডার (Government Pleader): দায়িত্ব পেয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী দিব্যেন্দ্রনারায়ণ রায়।
সিনিয়র স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল: বিজেপি শিবিরের অত্যন্ত পরিচিত আইনি মুখ নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর (Public Prosecutor): বার অ্যাসোসিয়েশন ক্লাবের সেক্রেটারি তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল-কে নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড (অরিজিনাল সাইড): এই পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে সিনিয়র আইনজীবী নন্দগোপাল খৈতান-কে।
আদালত সূত্রের খবর, “গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই তৃণমূল জমানার অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সহ পুরো প্যানেল ইস্তফা দেয়। ফলে সরকারি আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের বহু মামলার শুনানি থমকে ছিল।”
স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মামলাকারীদের?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই নতুন প্যানেল গঠনের ফলে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সম্পর্কিত মামলাগুলির আইনি জট দ্রুত কেটে যাবে। নবান্নের ফাইল ও নথিপত্র সুরক্ষার পর আইনি ফ্রন্টেও নতুন সরকারের এই তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবার নতুন প্যানেলের হাত ধরে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।





