রাজ্যে অনাহার নেই? নদিয়ার একাধিক গ্রামে অপুষ্টির শিকার বহু বাসিন্দা, বিতর্ক সত্ত্বেও ‘পাইলট প্রজেক্ট’ শুরু পুলিশের

নদিয়া জেলার একাধিক গ্রামে অপুষ্টির (Malnutrition) শিকার বহু বাসিন্দা রয়েছে, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে খোদ পুলিশ প্রশাসন। এই বাস্তবতার মোকাবিলা করতে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’—যার নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘অপুষ্টি মুক্তি মিশন’। তেহট্ট মহকুমার পাঁচটি থানা এলাকার পাঁচটি গ্রাম বেছে নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

তবে পুলিশের এই ‘অপুষ্টি-তত্ত্বে’ একমত নন জেলা প্রশাসন কিংবা শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরা।

পুলিশের ‘মানবিক প্রকল্প’ ও নজরদারি:

কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ কে-এর দাবি, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে যেখানে মানুষ থানার কাছেও আসেন না, সেই গ্রামগুলিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বহু মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন। এই মানবিক ভাবনা থেকেই উদ্যোগ।

পাঁচটি গ্রাম: তেহট্ট মহকুমার পলাশিপাড়া, করিমপুর, মুরুটিয়া ও হোগোলবেড়িয়া থানার অন্তর্গত পাঁচটি গ্রাম এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সহায়তা: পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জন ‘অপুষ্টিতে আক্রান্ত’ গ্রামবাসীকে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, সদ্যোজাত শিশু ও বয়স্কদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

‘সুস্বাস্থ্য কার্ড’: প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘সুস্বাস্থ্য কার্ড’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিনামূল্যে সুষম খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, “গ্রামের অনেকে কর্মক্ষম নন। তাঁরা অপুষ্টি ও অনাহারে রয়েছেন। তাঁদের জন্য থানার তরফে কার্ড তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে খাবার, সবটাই দিচ্ছে পুলিশ।”

প্রশাসন ও শাসক দলের তীব্র আপত্তি:

পুলিশের এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শাসক দল তৃণমূল এবং জেলা প্রশাসন পুলিশের ‘অপুষ্টি তত্ত্ব’-এ ভরসা রাখতে নারাজ।

তৃণমূল বিধায়ক: করিমপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। এ রাজ্যে অনাহার নেই।”

জেলা প্রশাসন: নদিয়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, “সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। অনাহার বা অপুষ্টির খবর পাইনি। পুলিশ কী করছে, সেটা ওরাই বলতে পারবে।”

তবে ওই পাঁচ গ্রামের অনেক বাসিন্দাই স্বীকার করেছেন যে সরকারি সুবিধা থাকলেও তা তাঁদের জীবনে যথেষ্ট নয়। জামশেরপুরের নারায়ণ সর্দারের মন্তব্য, “মাসে ১০০০ টাকায় কী হয়? ওষুধ খাব না দু’মুঠো ভাত খাব?”

প্রশাসনের নীরবতা আর পুলিশের সরাসরি মানবিক ভূমিকা এখন নদিয়ার রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন তুলেছে— রাজ্যের সরকারি প্রকল্পগুলি যদি যথাযথ হতো, তবে কেন পুলিশকে ‘অপুষ্টি মুক্তি মিশন’-এর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy