রাজ্যের ৯ জেলায় সাফ তৃণমূল! ঝড়ের গতিতে ‘পদ্ম’ উত্থানের আসল কারণ কী? বিস্ফোরক তথ্য সামনে!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। পরিবর্তনের এই প্রবল হাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ— রাজ্যের অন্তত ৯টি জেলায় কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরের চা-বলয় থেকে জঙ্গলমহলের রুক্ষ মাটি, এমনকি শিল্পাঞ্চলেও ঘাসফুল শিবির এবার ‘শূন্য’। এই নজিরবিহীন ভরাডুবির নেপথ্যে ঠিক কী কী কারণ রয়েছে, তার এক বিশেষ ময়নাতদন্ত করল ইটিভি ভারত।

যে ৯ জেলায় ধুয়ে গেল তৃণমূল: রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল কোনো আসনই পায়নি। অন্যদিকে, জঙ্গলমহলের আদিবাসী অধ্যুষিত জেলা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামেও ঘাসফুলের ঝুড়ি শূন্য। এছাড়াও বিরোধী দলনেতার গড়ে অর্থাৎ পূর্ব মেদিনীপুর এবং শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত পশ্চিম বর্ধমানেও তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে।

কেন এই বিপর্যয়? ইটিভি ভারতের বিশ্লেষণে উঠে এল ৩টি প্রধান কারণ:

১. রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে ধস: উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে তৃণমূলের পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রাজবংশী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমর্থন হারানো। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং চা-শ্রমিকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার সরাসরি ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলেছে। বিজেপি এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ওই জেলাগুলোতে ‘ক্লিন সুইপ’ করেছে।

২. দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাব: পশ্চিম বর্ধমানের মতো শিল্পাঞ্চলে সরকারি নিয়োগ দুর্নীতি এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং মধ্যবিত্ত সমাজ তৃণমূলের হাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় প্রতিটি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের জয় সহজ হয়েছে।

৩. সাংগঠনিক ফাটল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব: পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ এবং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্বের সুবিধা নিয়েছে বিজেপি। অনেক জায়গায় তৃণমূলের ভোট সরাসরি বিজেপির ঝুলিতে চলে গেছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের এই ৯টি জেলায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা শূন্য হওয়া কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং এটি শাসকদলের জনভিত্তিতে বড়সড় ফাটল। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রচার ছিল তুঙ্গে, সেখানে এই ফল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

আগামী দিনে এই ৯টি জেলা থেকে সংগঠন কীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ভবনে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক পদ্ম উত্থান যে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy