রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা কোয়েল মল্লিকের! টলি পাড়ায় তোলপাড়, কী জানালেন সুকান্ত?

রাজনীতির আঙিনায় ফের একবার বড়সড় নাটকীয় মোড়। গত ৬ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। ১৬ জুলাই তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত টলিপাড়া থেকে রাজনৈতিক মহলে একযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিয়েছে। কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? কার নির্দেশে বা কোন অঙ্ক মাথায় রেখে অভিনেত্রীর এই পদত্যাগ? এই প্রশ্নগুলোই এখন কেন্দ্রবিন্দুতে।
জানা গিয়েছে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে কোয়েল মল্লিক দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। বৈঠকের পরই তাঁর ইস্তফা গৃহীত হয়। তবে কি অভিনয় দুনিয়ার গ্ল্যামার ছেড়ে পুরোপুরি বিজেপির রণকৌশলগত রাজনীতির পথে হাঁটছেন কোয়েল? ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে সেই ধোঁয়াশা অনেকটাই কাটিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
বৃহস্পতিবার হাওড়ায় রথযাত্রা উৎসবে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট করেন, কোয়েলের এই ইস্তফা নিছক কোনো প্রস্থান নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ। সুকান্ত বলেন, “এর আগে তিনজন সাংসদ যেভাবে ইস্তফা দিয়ে আবার সাংসদ পদে ফিরে এসেছেন, কোয়েল মল্লিকও ঠিক সেই পথেই হাঁটবেন।” উল্লেখ্য, সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ—সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক ও সুখেন্দু শেখর রায়ও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই রাজ্যসভায় বিজেপির প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে চলেছেন।
সুকান্ত মজুমদারের মতে, রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “মানুষের স্বার্থে বিজেপির যে উন্নয়নমূলক কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে, তা সফল করতে উচ্চকক্ষে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তাই নতুন করে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করে কোয়েল মল্লিককে আবারও সাংসদ পদে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুকান্ত মজুমদারের এই বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কোয়েল মল্লিককে বিজেপি আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে ফের নতুনভাবে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ, জার্সি বদল বা কোনো অন্তর্কলহ নয়, বরং রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি এবং আইনি জটিলতা কাটিয়ে নতুনভাবে দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্যই এই কৌশলগত ইস্তফা। সব মিলিয়ে কোয়েলের এই পদক্ষেপ এখন বাংলার রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি তাঁর পরবর্তী ভূমিকার কথা ঘোষণা করে।