রাজনীতি থেকে বিদায়ের ঘোষণা! হুমায়ুন কবীরের সব হিসেব উল্টে দিয়ে রেজিনগরে গেরুয়া শিবিরের ঐতিহাসিক জয়

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ময়দানে এই মুহূর্তে সবচেয়ে চর্চিত ও বিস্ফোরক কেন্দ্র রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচন। ভোটের ফলাফল প্রকাশের শুরু থেকেই যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্ট যে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। গণনার প্রাথমিক ধাপ থেকেই বিপুল ভোটে এগিয়ে থেকে পদ্ম শিবির সেখানে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য কায়েম করেছে। আর এই ভোটের ফলাফল সামনে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবীর।
গত ৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণের ঠিক পরের দিনই সংবাদমাধ্যমের সামনে এক নজিরবিহীন আবেগঘন দৃশ্য তৈরি করেছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে খাস নবান্নে ডেকে কথা দিয়েছিলেন—রেজিনগর উপ-নির্বাচনে তাঁর দল অর্থাৎ এজেইউপি প্রার্থী তথা তাঁর পুত্র গোলাম নবী আজাদকেই বিজয়ী করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই কথা রাখা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ক্যামেরার সামনেই মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলতে দেখা যায় তাঁকে। শুধু তাই নয়, এই চরম রাজনৈতিক প্রতারণার শিকার হয়ে রাজনীতি থেকে পাকাপাকিভাবে সন্ন্যাস নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন কবীর।
তবে হুমায়ুনের সেই নজিরবিহীন কান্না ও আবেগঘন প্রতিবাদের ফল যে ভোটের বাক্সে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলেনি, তা আজ সকাল থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। গণনাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিরাপদ ব্যবধানে প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছেন। ভোটগণনার এই স্পষ্ট আভাস পেতেই রেজিনগরের বিভিন্ন প্রান্তে উল্লাসে ফেটে পড়েছেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা। গেরুয়া আবির উড়িয়ে, মিষ্টি মুখ করিয়ে এবং স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে জয়ের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের নানা রাজনৈতিক সমীকরণ ও আবেগপূর্ণ বয়ানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রেজিনগরের সাধারণ মানুষ যেভাবে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তা রাজ্যের বর্তমান রাজনীতিতে এক অত্যন্ত বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিল।