রাজনীতির ময়দানে সৌজন্যের নজির! বিজেপি-তৃণমূল সংঘাতের মাঝেই হাত মেলালেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।

লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। আর সেই উত্তাপের আঁচ গিয়ে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদরের কৌশল্যার ঐতিহ্যবাহী শ্মশান কালীপুজোর মেলায়। প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার হাজার মানুষের ভিড় হলেও, মেলা প্রাঙ্গণ কার্যত পরিণত হলো শাসক ও বিরোধী শিবিরের শক্তি প্রদর্শনের ময়দানে।

এদিন মেলায় প্রথমে পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। মন্দিরে পুজো দিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার পর তিনি যখন বেরোচ্ছিলেন, তখনই মুখোমুখি পড়ে যান বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। মুহূর্তের নিস্তব্ধতা ভেঙে এগিয়ে আসেন দিলীপ ঘোষ নিজেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রদীপের দিকে বাড়িয়ে দেন হাত। মেলা প্রাঙ্গণে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর এই সৌজন্য বিনিময় মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি হয়, যা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেন।

তবে সৌজন্যের এই ছবির আড়ালে ছিল অন্য এক রণক্ষেত্র। মেলার এক প্রান্তে যখন বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান উঠছে, অন্য প্রান্ত থেকে পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।

ঘটনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাস্তায় দেখা হলে কথা বলব না, সেটা কী হয়? আমি বিধায়ক ছিলাম, উনি চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজনৈতিক লড়াই জায়গায় থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক অটুট থাকা উচিত। শেষমেশ মানুষই ঠিক করবে কাকে জেতাবে।”

অন্যদিকে, সৌজন্য দেখালেও মেলায় বিজেপির স্লোগান দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন প্রদীপ সরকার। তাঁর মন্তব্য, “কালীমন্দিরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া কি ঠিক? এটা ধর্মীয় স্থানের অবমাননা। আজ রাম যদি বেঁচে থাকতেন, তিনিও হয়তো এই আচরণে লজ্জা পেতেন।” প্রদীপের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এবারের নির্বাচনেও যে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, মেলা প্রাঙ্গণের এই চিত্রই তা স্পষ্ট করে দিল। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে দুই পক্ষই এখন ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy