রাজনীতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করে দেশজুড়ে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়লেন বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব। তাঁর দাবি, রাজনীতিতে আসা ৯০ শতাংশ মহিলাই কোনও না কোনও পুরুষ নেতার শোষণের শিকার হন। এই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে রাজনৈতিক মহল।
কী বলেছেন পাপ্পু যাদব? মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনার আবহে পাপ্পু যাদব পুরুষ রাজনীতিকদের সরাসরি ‘শকুন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “ভারতে মহিলাদের দেবী বলা হলেও বাস্তবে তাঁদের সম্মান নেই। সিস্টেম এবং সমাজ—উভয়ই এর জন্য দায়ী। ৯০ শতাংশ মহিলা কোনও প্রভাবশালী পুরুষ নেতার ঘরে না গিয়ে রাজনীতি শুরুই করতে পারেন না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আমেরিকা থেকে ভারত—সব জায়গার নেতারাই মহিলাদের ওপর কুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য দায়ী। তাঁর মতে, নেতাদের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই এই শোষণের সংস্কৃতির প্রমাণ মিলবে।
মহিলা কমিশনের কড়া পদক্ষেপ: পাপ্পু যাদবের এই ‘নারী-বিদ্বেষী’ মন্তব্যকে হালকাভাবে নেয়নি প্রশাসন। বিহার রাজ্য মহিলা কমিশন ইতিমধ্যেই তাঁকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। কমিশন কড়া ভাষায় জানতে চেয়েছে— কেন এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করা হলো এবং কেন তাঁর লোকসভার সদস্যপদ বাতিল করার সুপারিশ করা হবে না?
রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড়: বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালা এই মন্তব্যকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করে ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোট ও কংগ্রেসের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, শায়না এনসি-র মতো নেত্রীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র সস্তার প্রচার পেতেই এই ধরনের নোংরা কথা বলছেন পাপ্পু। কংগ্রেস নেত্রী শামা মহম্মদও এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।
সাংসদের এমন বিস্ফোরক দাবি কি রাজনৈতিক সত্যের আড়ালে মহিলাদের অপমান, নাকি নিছকই সস্তার রাজনীতি? তা নিয়ে এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।





