শহরের ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত সেই বাড়িটি গত তিনদিন ধরে ছিল একদম শুনশান। প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনদের কারও ডাকেই ভেতর থেকে কোনো সাড়া মিলছিল না। জানলা-দরজা সব ছিল ভেতর থেকে বন্ধ। অবশেষে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই যা দেখল, তাতে অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারদেরও চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। একই ঘর থেকে উদ্ধার হলো পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণবঙ্গের এক শহরতলিতে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই পরিবারটি পাড়ায় বেশ শান্ত ও ধীরস্থির হিসেবেই পরিচিত ছিল। গত তিনদিন ধরে তাঁদের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাত থেকে বাড়িটির ভেতর থেকে এক অদ্ভুত পচা গন্ধ বেরোতে শুরু করলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সদর দরজা ভেঙে দেখে, শোওয়ার ঘরে মা-বাবা এবং দুই সন্তানের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। দেহগুলোতে ইতিমধ্যেই পচন ধরতে শুরু করেছে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি গণ-আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত খুনের তত্ত্বও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। ঘরের ভেতরে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের লোকজনের দাবি, পরিবারটি সম্প্রতি কোনো বড় আর্থিক সংকটে ভুগছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন। এই রহস্যমৃত্যু ঘিরে গোটা এলাকায় এখন তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে। পুলিশ বাড়িটি সিল করে দিয়েছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ শুরু করেছে।