রবীন্দ্র সরোবরের পর এবার লক্ষ্য সুভাষ সরোবর! ১০০ একরের এই পার্কে কত হাজার গাছ আছে? সমীক্ষায় নামছে KMDA।

রবীন্দ্র সরোবরের সাফল্যের পর এবার শহরের অন্যতম প্রধান অক্সিজেন জোগানদার সুভাষ সরোবরকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা নিল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)। এবার থেকে সরোবরের গাছের গায়ে তাকালেই দেখা যাবে কিউআর কোড (QR Code)। স্মার্টফোনে এক ক্লিকেই জানা যাবে গাছটির নাম, প্রজাতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— তার সঠিক বয়স।

কেন এই সমীক্ষার প্রয়োজন?

প্রায় ১০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত সুভাষ সরোবরের ৪০ একর জলভাগ হলেও বাকি ৬০ একর জুড়েই রয়েছে ঘন সবুজ বনরাজি। কৃষ্ণচূড়া, রাধা চূড়া থেকে শুরু করে শিমুল, পলাশ, অর্জুন কিংবা শাল— কী নেই সেখানে! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এই বিশাল চত্বরে ঠিক কতগুলি গাছ আছে বা কোন গাছের বয়স কত, তার কোনও সঠিক তথ্য নেই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কেএমডিএ-র কাছে।

সমীক্ষার মূল লক্ষ্যগুলো হল:

  • সরোবরে থাকা মোট গাছের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা।

  • গাছগুলির প্রজাতি চিহ্নিত করা।

  • আমফান বা ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কত গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার হিসাব রাখা।

  • ভবিষ্যতের জন্য কোন ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন, তার পরিকল্পনা করা।

ডিজিটাল হবে গাছের ইতিহাস

কেএমডিএ সূত্রে খবর, এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। রবীন্দ্র সরোবরের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল সেখানে প্রায় ৮ হাজারের বেশি গাছ রয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজারই ছিল ৭০-৮০ বছরের পুরনো। সুভাষ সরোবরেও এমন বহু প্রাচীন বৃক্ষ রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কিউআর কোড বসলে সাধারণ নাগরিকরাও গাছ নিয়ে সচেতন হতে পারবেন।

কেএমডিএ আধিকারিকের বয়ান: “শহরের পরিবেশ রক্ষায় সুভাষ সরোবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ করতে এবং সাধারণ মানুষকে প্রকৃতির ইতিহাস জানাতে এই সমীক্ষা জরুরি। অর্থ বরাদ্দের জন্য রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, আশা করছি এ বছরই কাজ শুরু হবে।”

শহরের দুই ফুসফুসের তুলনা

বৈশিষ্ট্য রবীন্দ্র সরোবর (দক্ষিণ কলকাতা) সুভাষ সরোবর (উত্তর-পূর্ব কলকাতা)
মোট এলাকা প্রায় ১৯২ একর প্রায় ১০০ একর
গাছ সংখ্যা ৮,০০০+ (সমীক্ষা অনুযায়ী) শীঘ্রই সমীক্ষা শুরু হবে
প্রযুক্তি কিউআর কোড ব্যবস্থা চালু চালুর পরিকল্পনা চলছে

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy