বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চেও এবার রাজনীতির সুর। বৃহস্পতিবার সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করতে গিয়ে রাজ্যে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং এই হয়রানির কারণে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই যন্ত্রণাকে ভাষা দিতেই এবারের মেলায় মমতার নতুন চমক— কবিতার বই ‘SIR’।
এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর মোট ৯টি নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে, যা মিলিয়ে তাঁর মোট বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬২। মুখ্যমন্ত্রী জানান, হেলিকপ্টারে সফর করার সময় মাত্র ২ দিনেই তিনি এই বইয়ের ২৬টি কবিতা লিখে ফেলেছেন। বইটির ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে পরিচিত ও স্বীকৃত পদবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে হয়রানির কথা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চট্টোপাধ্যায়-চ্যাটার্জি বা বন্দ্যোপাধ্যায়-ব্যানার্জি তো একই পদবি। আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন, তাঁকেও হয়তো প্রমাণ করতে হতো তিনি ‘টেগোর’ কি না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রবীণদের কাছেও জন্ম শংসাপত্র দাবি করছে, যা আগেকার প্রজন্মের অনেকের কাছেই নেই। অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাজপেয়ীজিও আমাকে বলেছিলেন তাঁর ২৫ ডিসেম্বর প্রকৃত জন্মদিন নয়। আমাদের মায়েদের অনেকেরই সঠিক জন্মতারিখ জানা নেই। তাহলে কেন তাঁদের খোলা আকাশের নীচে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে?” কমিশনের এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হতেই এবারের বইমেলায় তাঁর ‘SIR’ বইটি ‘হটকেক’ হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।