‘রবীন্দ্রনাথের হাওয়ায় শ্বাস নেব!’ কেরলের ভোটার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবার বাংলার ‘দত্তক সন্তান’ হতে চেয়ে আবেদন করলেন নির্বাচন কমিশনে।

রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সংঘাত থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রতি নিজের অনুরাগের কথা আগেই প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বাংলা ভাষায় হাতেখড়ি নেওয়া, এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে জীবনের নায়ক হিসেবে ঘোষণা করার পর এবার তিনি এই বঙ্গের ‘দত্তক সন্তান’ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (SIR) জন্য এন্যুমারেশন ফর্ম জমা করার শেষ দিনে বাংলার ভোটার হতে চেয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন।

নেতাজির নাম নিয়ে গর্বিত রাজ্যপাল
৭৪ বছর বয়সী সিভি আনন্দ বোসের জন্ম কেরলের কোট্টায়াম জেলার মন্ননামে। এতদিন তিনি কেরলেরই ভোটার ছিলেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিরুবনন্তপুরমে ভোট দিয়েছিলেন।

রাজ্যপাল জানান, তাঁর বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং মা কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মী। নেতাজির প্রতি তাঁদের অনুরাগ এতটাই ছিল যে, মালায়লি হয়েও ছেলের নামের সঙ্গে ‘বোস’ পদবি জুড়ে দিয়েছিলেন। নিজের নামের সঙ্গে নেতাজির উপাধি জড়িত থাকায় তিনি গর্ববোধ করেন।

বৃহস্পতিবার রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই আট নম্বর ফর্ম ফিল-আপ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের আর্জি পেশ করেছেন।

রাজ্যপালের বক্তব্য:

“বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ যে হাওয়ায় শ্বাস নিয়েছিলেন, আমি সেই বাংলার ভোটার হতে চাই। মানসিকভাবে, আবেগ থেকে, সাংস্কৃতিকভাবে আমি বাংলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের মতো আমিও বোস। এই বিষয়টি আমাকে বাঙালিয়ানার আবেগ দেয়। আমি এই বাংলার দত্তক সন্তান হতে চাই।”

ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজভবন চলো কর্মসূচিতে কংগ্রেসের প্রতিবাদ
অন্যদিকে, এদিনই কংগ্রেসের তরফে রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে ওয়াকফ বোর্ড অফিস থেকে রাজভবন পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

মিছিলের নেতৃত্ব: কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। মিছিলে সৌম্য আইচ রায়-সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মিছিলে সংখ্যালঘুদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে।

অধীরের অভিযোগ: অধীররঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধুমাত্র নিজেদের ভোট ব্যাংক বলে মনে করেন। তিনি এই মানুষজনকে এতদিন সেভাবেই ব্যবহার করে এসেছেন। সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বাস্তবায়ন তারই প্রমাণ। সংখ্যালঘু মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস।”

দলের অন্য নেতারাও রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy