রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার টিএমসিপি নেতা, দল থেকে বহিষ্কার

বিক্ষোভ চলাকালীন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)-এর চাঁচল কলেজ ইউনিটের সভাপতি নাসিমুল হক সোয়েল। সোমবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তাকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাতেই টিএমসিপি-র রাজ্য নেতৃত্ব সোয়েলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে এবং চাঁচল কলেজ ইউনিট ভেঙে দিয়েছে।

কী ঘটেছিল?
সম্প্রতি কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূলের একটি প্রতিবাদ মঞ্চ সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। এর প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার টিএমসিপি-র চাঁচল কলেজ ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ আন্দোলন করা হয়, যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নাসিমুল হক সোয়েল। বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবির পাশাপাশি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভাইরাল ভিডিও ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনার কয়েকদিন পর এই বিক্ষোভের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির অনেক নেতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। বিদ্বজ্জন মহলেও এই ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি আঁচ করে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেয় এবং এরপরই নাসিমুল হক সোয়েলকে গ্রেফতার করা হয়।

চাঁচল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা জানান, “এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাসিমুল হক সোয়েলকে গ্রেফতার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।”

টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি প্রসূন রায় জানান, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের গর্ব। তাঁর অপমান মানে দেশের অপমান। যদিও আমরা মনে করছি এটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনা, কিন্তু এমন ঘটনা যে ঘটেছে, তা অস্বীকার করা যায় না। তাই দল ওই নেতাকে বহিষ্কার করেছে এবং পুলিশ তাদের মতো তদন্ত চালাচ্ছে।”