‘রবিবার পর্যন্ত সময় দিলাম, নইলে সোজা অনশনে বসব!’ দিল্লি কাঁপানো ধরপাকড় নিয়ে ফের বিস্ফোরণ সোনম ওয়াংচুকের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার রাজধানী জুড়ে যেভাবে বিরোধী নেতা, ছাত্রনেতা, আইনজীবী ও আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে আটক করা হয়েছে, তাকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ (Undeclared Emergency) বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে আগামী রবিবারের মধ্যে সমস্ত আটক আন্দোলনকারীকে নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন ওয়াংচুক। অন্যথায় তিনি ফের অনশন ধর্মঘট কিংবা পদযাত্রার মতো কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে যে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা তাঁর কল্পনার বাইরে ছিল। এর আগে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন বজায় রাখার আহ্বান জানালেও পুলিশ যেভাবে ধরপাকড় চালিয়েছে তা অত্যন্ত হতাশাজনক।

উল্লেখ্য, শনিবারের এই বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ছাড়াও সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এবং এআইএসএ-র সভানেত্রী নেহা বোরার মতো রাজনৈতিক নেতারা পুলিশের জালে পড়েন। এর পাশাপাশি সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর মতো হাই-প্রোফাইল মুখগুলিকেও আটক করা হয়। রবিবারের মধ্যে এই ব্যাপক গণগ্রেফতারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সুর নরম না হলে আন্দোলন যে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে, তা বলাই বাহুল্য।