ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় পাশেই ছিলেন না বোন সোহা! ক্ষোভ উগরে দিলেন সাবা পতৌদি

মাত্র ২৭ বছর বয়সে জীবনে নেমে এসেছিল এক চরম দুর্যোগ। ব্রেন টিউমারের মতো মারাত্মক রোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল শর্মিলা ঠাকুরের বড় মেয়ে সাবা পতৌদিকে। দীর্ঘ লড়াই এবং অস্ত্রোপচারের সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করে সম্প্রতি এক আবেগপ্রবণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। সাবা জানান, জীবনের ওই কঠিন সময়ে মা শর্মিলা ঠাকুর এবং ভাই সইফ আলী খান তাঁকে যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, ঠিক তার উলটো ছবি দেখা গিয়েছিল বোন সোহা আলী খানের ক্ষেত্রে। অসুস্থতার দিনগুলিতে সোহা তাঁর পাশে ছিলেন না এবং তাঁর সঙ্গে প্রায় কোনো যোগাযোগই রাখেননি বলে অভিযোগ সাবার।

ব্রেন টিউমার ও জীবনের ঝুঁকি: সাবা পতৌদি জানান, যখন তাঁর ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৭ বছর। এর ঠিক ছ’মাস পর তাঁর সফল ব্রেন সার্জারি হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মস্তিষ্কের যে অংশে টিউমারটি হয়েছিল, সেখানে সামান্য আঘাত বা ভুলত্রুটি ঘটলে তাঁর ‘শর্ট টার্ম মেমোরি লস’ বা স্বল্পমোদী স্মৃতিভ্রম হওয়ার ঝুঁকি ছিল। ফলে সেই সময়টা শর্মিলা-কন্যার জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে কেটেছিল।

পরিবারের সমর্থন ও সোহার অনুপস্থিতি: এই দুঃসময়ে মা শর্মিলা ঠাকুর এবং ভাই অভিনেতা সইফ আলী খান তাঁর সবচেয়ে বড় মানসিক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বোন সোহা আলী খান এই বিপদের দিনে তাঁর পাশে সেভাবে দাঁড়াননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সাবা। যদিও বিষয়টি নিয়ে এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি তিনি, তবে সম্প্রতি সোহার নিজস্ব পডকাস্ট শো-তে অতিথি হিসেবে এসে এই প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন সাবা। তিনি জানান, বোনের এমন দূরত্ব বজায় রাখা তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটাই আঘাত করেছিল এবং তিনি সোহার ওপর বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন।

সোহার সাফাই: অন্যদিকে, পডকাস্টের আলোচনার সময় সোহা আলী খান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে, ওই সময় ঠিক কী করা উচিত বা তাঁর ভূমিকা কী হওয়া উচিত ছিল, তা তিনি সেই মুহূর্তে ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। সোহা সাফাই দিয়ে জানান, তাঁদের মা শর্মিলা ঠাকুর তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে এই দীর্ঘ সময়ে সাবার যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি কাকে চান। সেই সময় সাবা তাঁদের মাকেই বেছে নিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে, পতৌদি পরিবারের অন্দরের এই পুরোনো স্মৃতি ও অভিমানের পালা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।