রোজগারের আশায় সুদূর উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে দক্ষিণ ভারতে পাড়ি দিয়েছিলেন ২২ বছরের তরুণী লিংসুলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে অকালেই ঝরে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি তাঁর পরিবার। গত বুধবার কর্ণাটকের চিক্কামাগালুরু জেলার একটি ঘর থেকে নাগাল্যান্ডের বাসিন্দা এই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্পা সেন্টারে কাজ করা এই তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে আসছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এক গভীর ষড়যন্ত্র এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের দিকে।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ: লিংসুলা নাগাল্যান্ডের কিফির জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং চিক্কামাগালুরুর একটি স্পা সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ভীষণ অস্থির এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করছিলেন না তিনি। মৃতার বোন লাশিলা ইঞ্চুঙ্গা অভিযোগ করেছেন যে, রাজেশ এবং তেজাশ নামের দুই ব্যক্তি লিংসুলার ওপর চরম মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এই অসহ্য চাপ সহ্য করতে না পেরেই লিংসুলা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে পুলিশ ও ছাত্র সংগঠন: ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন বেঙ্গালুরু (ENSU-B)-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের উপস্থিতিতেই পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলেনি, তবে তরুণীর সহকর্মীদের বয়ান রেকর্ড করছে পুলিশ।
পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: এই ঘটনা কর্ণাটকে পরিযায়ী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। গত কয়েক দিনে বেঙ্গালুরু এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে পণের দাবি বা কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মহারাষ্ট্রে এক মহিলা চিকিৎসকের আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধেও যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। নাগাল্যান্ডের এই তরুণীর মৃত্যুতে জড়িতরা কি আদেও শাস্তি পাবে? সেই দিকেই তাকিয়ে বিচারপ্রার্থী পরিবার।