শিক্ষা জগৎকে কলঙ্কিত করে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলা থেকে উঠে এল এক হাড়হিম করা অভিযোগ। এক সপ্তম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীকে দীর্ঘ এক বছর ধরে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে একটি স্কুলের ৫ জন শিক্ষককে। যে গুরুদের ওপর ছাত্রছাত্রীদের মানুষ করার দায়িত্ব থাকে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এমন পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা নাবালিকা ওই স্কুলেরই ছাত্রী। অভিযোগ, গত এক বছর ধরে ভয় দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেল করে স্কুলের ভেতরেই ৫ শিক্ষক তাকে দফায় দফায় ধর্ষণ করত। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে, নাবালিকা মুখ খুললে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দিনের পর দিন এই নারকীয় অত্যাচার সহ্য করার পর অবশেষে গত সপ্তাহে সে তার পরিবারের কাছে সবটা খুলে বলে।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্ত ৫ শিক্ষককেই গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের বিভিন্ন ধারা এবং গণধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে। ওড়িশা শিক্ষা দফতর অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্কুলের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। স্কুলের মতো নিরাপদ জায়গায় কীভাবে এই ঘটনা দিনের পর দিন চলতে পারল, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।