যৌন হেনস্তার অভিযোগ, উপাচার্যকে ক্ষমা করল সুপ্রিম কোর্ট! তবে দিতে হবে কঠিন মূল্য

এক নামজাদা সরকারি অনুদান প্রাপ্ত আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্তার অভিযোগের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি পঙ্কজ মিঠাল এবং প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করলেও উপাচার্যকে তীব্র ভর্ৎসনা করে।
কী রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত?
আদালত রায় দিয়েছে যে, উপাচার্যকে ক্ষমা করা গেলেও তার করা অন্যায় ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এর ফলস্বরূপ, এখন থেকে ওই উপাচার্যকে তার ‘রেজিউমে’ বা পেশাগত অভিজ্ঞতাপত্রে এই যৌন হেনস্তার অভিযোগ এবং মামলার বিবরণ লিখে রাখতে হবে।
মামলার নেপথ্যে কী ছিল?
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফ্যাকাল্টির সদস্য তার উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্য তাকে নিজের ঘরে ডেকে অশালীন প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০১৯ সাল থেকে উপাচার্য তাকে লাগাতার হয়রানি করে আসছিলেন।
তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় অভিযোগ কমিটি (LCC) তার অভিযোগ খারিজ করে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, অভিযোগটি নির্দিষ্ট সময়সীমার (৩ থেকে ৬ মাস) মধ্যে করা হয়নি। এরপর মামলাকারী কলকাতা হাইকোর্টে যান। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ LCC-র যুক্তি খারিজ করে শুনানি শুরু করে। পরবর্তীতে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা উঠলে আদালত রায় দেয় যে, ওই ফ্যাকাল্টি সদস্যের অপসারণের সঙ্গে উপাচার্যের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি প্রশাসনিক একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল। তবে, শীর্ষ আদালত এই মামলা খারিজ করলেও উপাচার্যকে যে নজিরবিহীন শাস্তি দিল, তা ভবিষ্যতে এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক কড়া বার্তা দিল।