“যোগীকে হারানোর প্ল্যান!”-সমাজবাদী পার্টির কাছে কত আসন দাবি করল কংগ্রেস?

আসন্ন ২০২৭ সালের হাইভোল্টেজ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, দুই দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সেই আলোচনার শুরুতেই সমাজবাদী পার্টির হাতে প্রায় ১৭০টি বিধানসভা আসনের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তুলে দিয়েছে কংগ্রেস। মূলত জয়ের সম্ভাবনা ও সাংগঠনিক শক্তিকে মাপকাঠি করে আসনগুলিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ভাগ করে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে হাত শিবির।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল স্তরে দলের শক্তি এবং অতীতের ফলাফল বিচার করে আসনগুলিকে A, B, C ও D—এই চারটি ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘A’ ক্যাটেগরির আসনগুলির বিষয়ে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, ফলে এই আসনগুলিতে সমঝোতার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে, ‘B’ ক্যাটেগরির কিছু আসনে সামান্য রদবদল হতে পারে। তবে ‘C’ ও ‘D’ বিভাগের আসনগুলি নিয়ে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনায় বসতে সম্পূর্ণ রাজি রয়েছে কংগ্রেস।
আসন সংখ্যা নিয়ে দরকষাকষি ও জোটের সমীকরণ
চলতি আলোচনায় সুনির্দিষ্ট কতগুলি আসনে তারা লড়তে চায়, সেই সংখ্যা এখনই প্রকাশ্যে আনছে না কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে মহাজোটে নিজেদের সম্মানজনক আসন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চায় তারা। চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে দুই দলের শীর্ষ স্তরে একাধিক দফায় বৈঠক ও আলোচনা হতে পারে। এমনকি, আসন ভাগাভাগি মসৃণ করতে দুই দলের বিশিষ্ট নেতাদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে।
কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতার মতে, উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে উৎখাত করাই দুই দলের প্রধান লক্ষ্য। সেই যৌথ লক্ষ্য পূরণ করতেই পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত উভয়পক্ষ।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের মোট ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে লড়ার দাবি তুলছেন কংগ্রেস নেতারা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে দলের স্ট্রাইক রেট এবং উত্তর ভারতে রাহুল গান্ধীর ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে হাতিয়ার করে এবার বিধানসভাতেও বড় ভূমিকা নিতে চাইছে তারা। দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত, ১১৫ থেকে ১২০টির কম আসনে লড়তে কোনওভাবেই রাজি নয় কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমও বিধানসভার উল্লেখযোগ্য অংশে দলের লড়াই করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।
অতীত অভিজ্ঞতা ও অন্দরের টানাপোড়েন
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ১৭টি আসনে লড়ে ৬টিতে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। সেই সাফল্যকেই এবার বিধানসভা নির্বাচনে দরকষাকষির প্রধান অস্ত্র করছে দল। পাশাপাশি ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতাও স্মরণ করা হচ্ছে, সেবার অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে ১১৪টি আসনে লড়েছিল হাত শিবির।
তবে এই আসন ভাগাভাগি নিয়ে দলের ভেতর থেকেই বিভিন্ন মত শোনা যাওয়ায় দুই শিবিরের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি সাহারানপুরের সাংসদ ইমরান মাসুদ সমাজবাদী পার্টির সমালোচনা করে মন্তব্য করেন যে, শুধু অন্য দলকে সরকার গড়তে সাহায্য করার জন্য কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জলাঞ্জলি দেবে না। অন্যদিকে, এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আগামী নির্বাচনগুলিতেও সমমনা দলগুলির সঙ্গে জোট বজায় থাকবে, তবে আসন সংখ্যার চেয়ে ‘জয়ের সম্ভাবনাই’ হবে সমঝোতার মূল মন্ত্র।
নতুন প্রচার কৌশল ও গণসংযোগ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলিত, সংখ্যালঘু এবং অ-যাদব ওবিসি ভোটারদের মধ্যে রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। সংবিধান রক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তাঁর ধারাবাহিক অবস্থান সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করছে বলে দাবি কংগ্রেসের।
এই ইতিবাচক হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে উত্তরপ্রদেশে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচার কর্মসূচি রূপায়ণ করতে চলেছে কংগ্রেস। খুব শীঘ্রই বালিয়া থেকে মেরঠ পর্যন্ত একটি সুদীর্ঘ জনযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পূর্বাঞ্চল ও অবধ অঞ্চলের ওপর বিশেষ জোর দেবে। একই সঙ্গে ‘সংগঠন সৃজন’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রেই দলের শিকড় মজবুত করতে মরিয়া কংগ্রেস নেতৃত্ব। সবমিলিয়ে, যোগী রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের লড়াইয়ে বিরোধী শিবিরের এই আসনর দাকরাফারি আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।