শুক্রবারের প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে কার্যত টালমাটাল পরিস্থিতি লেকটাউনের। ঝড়ের দাপটে বিপজ্জনকভাবে দুলতে শুরু করেছে লিওনেল মেসির বিশাল মূর্তিটি। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাটির যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মূর্তির সামনের সাবওয়েটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিপজ্জনক অবস্থায় মেসি প্রায় ৭০ ফুট উঁচু এই বিশাল মূর্তিটি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক ও উদ্বেগের শেষ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, সামান্য ঝড়ো হাওয়া দিলেই মূর্তিটি বিপজ্জনকভাবে দুলছে। শুক্রবারের কালবৈশাখীতে সেই দুলুনি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। মূর্তির স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বর্তমানে তা এক প্রকার ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের তৎপরতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। আপাতত মূর্তিটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে সাময়িকভাবে স্থির রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, মূর্তির উপরের অংশটিকে অক্ষত রেখে নিচের কাঠামো বা বেসমেন্ট থেকে তা সরানো বা পুনর্নির্মাণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কীভাবে এই বিশাল কাঠামোটি নিরাপদভাবে নামানো সম্ভব, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিতর্কের মূলে কী? অভিযোগ উঠেছে, মূর্তিটি বসানোর সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি ও পূর্ত দপ্তরের অনুমতি (NOC) নেওয়া হয়নি। এছাড়াও সঠিক ‘সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি’ না থাকায় এই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমেও এই মূর্তির নিরাপত্তা নিয়ে টানাপোড়েনের খবর প্রকাশ পেয়েছে, যা কলকাতা তথা ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর।
আপাতত এলাকাটিতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকার আশেপাশে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।





