যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিলম্ব? খামেনেইয়ের শেষকৃত্য ঘিরে তুঙ্গে কৌতূহল, উঠে এল আসল কারণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। অবশেষে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে চলায় আন্তর্জাতিক মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই দীর্ঘ বিলম্ব। কেন মৃত্যুর এত মাস পর এই আনুষ্ঠানিকতা? দেহ কোথায় বা কীভাবে রাখা ছিল? তা নিয়ে সরব হয়েছে সংবাদমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই দীর্ঘ বিলম্ব? ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও চরম যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় দেশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছিল, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশাল নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের তীব্রতা এবং পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাই এই বিলম্বের মূল কারণ।
কোথায় রাখা ছিল দেহ? ইসলামিক রীতি অনুযায়ী সাধারণত রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় দেহ সংরক্ষণ (এমবামিং) নিরুৎসাহিত করা হয়। তাহলে চার মাস দেহ কীভাবে অক্ষত থাকল? সন্ত্রাসবাদ-দমন বিশেষজ্ঞ ড. মহম্মদ ওমরের মতে, দেহটি সম্ভবত কোনো হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
শিয়া আইনে বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে দাফনে বিলম্ব ও হিমাগারে দেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ মর্যাদার কারণে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া সহজ ছিল।
ফরেন্সিক মর্গে এমনিতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাসের পর মাস দেহ সংরক্ষিত থাকে, তাই এই বিষয়টি খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।
প্রতীকী গুরুত্ব: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের এই বিশাল আয়োজন কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের শক্তি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান সরকার তাদের বিপ্লবী উদ্দীপনা যে এখনো অটুট রয়েছে, তা বিশ্বকে দেখাতে চাইছে। তেহরানে আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা।