যুদ্ধের শেষ নাকি মহাপ্রলয়ের শুরু? ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র ট্রাম্পের, না খুললে ধ্বংস হবে দেশ!

আন্তর্জাতিক রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেজাজ বোঝা দায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এখন সারা বিশ্বকে চরম উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শনিবার সকালেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে চলতে থাকা মার্কিন সামরিক অভিযান এবার শেষের পথে। কিন্তু রাত বাড়তেই সেই ‘শান্তি দূত’ ইমেজ ঝেড়ে ফেলে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সরাসরি ইরান সরকারকে চরমপত্র দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না।

হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক কড়া বার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, “আমরা আর অপেক্ষা করব না। যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হয়, তবে আমেরিকার নিশানায় থাকবে ইরানের সবচেয়ে বড় বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটিগুলি।” উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে এবং দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ভোলবদলের নেপথ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ চাপ এবং বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্ব তেলের সরবরাহের ‘লাইফলাইন’। এখান দিয়ে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে তেলের আকাল। ট্রাম্পের এই ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম আসলে বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা নাকি সরাসরি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের উসকানি, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে কূটনীতিকদের মধ্যে।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনও এই আল্টিমেটাম নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানের কট্টরপন্থী নেতারা বারবারই বলে আসছেন যে, তাঁদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করলে তাঁরা জলপথ বন্ধ রাখতে দ্বিধা করবেন না। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, পারস্য উপসাগরে আতঙ্কের মেঘ ততই ঘনীভূত হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমা পার হওয়ার পর পৃথিবী কি আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy